বিরোধীদের অভিযোগ জন্ম ও কাশ্মীরের সমস্যাকে বারবার অভ্যন্তরীণ বললেও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত করেছে শাসক দল বিজেপিই। সোমবার দেশটির লোকসভার অধিবেশনে প্রসঙ্গটি আসে। কাশ্মীরে ইউরোপীয় সাংসদদের সফর নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
প্রথম দিনের সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে নিয়মমাফিক সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বলেন, আগের অধিবেশন অভূতপূর্ব হয়েছিল। কিন্তু অধিবেশনের শুরুতেই ছিলেন না মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, বিদেশে থাকা রাজনাথ ছাড়া বাকি সবাই সংসদ ভবনে এসেছিলেন। নিজেদের কক্ষে বৈঠকও করেন। কিন্তু লোকসভায় আসেননি। আর এদিকে কংগ্রেস-এনসিপি-ডিএমকে-তৃণমূলের মতো বিরোধীরা এক জোট হয়ে নানা বিষয় নিয়ে হইচই করলেন। এমনকি নতুন ‘বিরোধী’ শিবসেনাও একটু দূরত্ব বজায় রেখে তাতে শামিল হয়।
অধিবেশনের একপর্যায়ে স্পিকার ওম বিড়লা বিরোধীদের কথা শুনতে চান। কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নেই কেন?’’ তারপরই তুললেন কাশ্মীর থেকে ফারুক আবদুল্লাহর অনুপস্থিতির কথা। যদিও আগের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, ফারুক বন্দী নন। তা হলে ১০৮ দিন পর এখনো কেন বন্দী তিনি? সংসদে নেই কেন?
সামাল দিলেন স্পিকার। বললেন, ‘‘সেই সময়ে ছিলেন না। কিন্তু এখন বন্দী।’’ বিরোধীরা অভিযোগ করলেন, জনৈক ‘ম্যাডি শর্মা’ যদি ইউরোপের সাংসদদের নিয়ে কাশ্মীর ঘুরতে পারেন, ভারতের সাংসদেরা পারবেন না কেন? বিজেপির সাংসদদের দিকে তাকিয়ে অধীর বললেন, ‘‘এটা আপনাদেরও অপমান নয়? আপনারা বলেন, জম্মু-কাশ্মীর অভ্যন্তরীণ বিষয়। আপনারাই তো তাকে আন্তর্জাতিক করছেন!’’ পাশ থেকে সোনিয়া গান্ধী সায় দিলেন। মুর্শিদাবাদের শ্রমিক থেকে জওয়ানদের হত্যা নিয়েও সরব হলেন বিরোধীরা।
কিন্তু জবাব দেওয়ার জন্য ছিলেন না মোদী বা অমিত। সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী প্রসঙ্গটা সামাল দিতে বললেন, ‘‘অনেক ক্যাবিনেট মন্ত্রী তো উপস্থিত ছিলেন। দায়িত্ব তো সামগ্রিক।’’
