প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে যেসব চুক্তি হয়েছে তা জানতে জানতে দু-এক দিনের মধ্যে তথ্য অধিকার আইনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেবে বিএনপি।
শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মির্জা ফখরুল বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি জানতে ইতিপূর্বে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সাত দিন অপেক্ষার পরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তাই তথ্য অধিকার আইনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আগামী দু-এক দিনের মধ্যে সেই চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
৫ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানিতে খালেদা জিয়া ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করেন বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য যে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে তারা ইতিমধ্যে ওনার শারীরিক অবস্থা অনেকটা ক্রিটিক্যাল মোমেন্টে আছে বলে জানিয়েছেন। তিনি দিন দিন পঙ্গুত্বের দিকে যাচ্ছেন। তারা আরো বলেছেন, ম্যাডামের আরো ভালো চিকিৎসা দরকার। আপনারা জানেন আমরা ইতিমধ্যে ওনার জামিনের জন্য কোর্টে আবেদন করেছি। কোর্ট ইতিমধ্যে মেডিকেল বোর্ডের কাছে ওনার মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলেছে। আমরা আশা করি ম্যাডামের চিকিৎসার জন্য যে বোর্ড গঠন করা হয়েছে তারা কোনো চাপে না পড়ে সঠিক রিপোর্ট দেবেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সব দুর্নীতির তদন্ত করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ইসিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দুই ভাগে বিভক্ত। সংবিধানকে লঙ্ঘন করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সচিব নির্বাচন কমিশনে লোক নিয়োগ দিচ্ছেন। কারণ কমিশনের সব বিষয়ে সবার একমত হতে হয়, কিন্তু তারা কারো মতের তোয়াক্কা না করে নিজেরাই লোক নিয়োগ দিচ্ছে। ইসির এই বিভক্তিতে প্রমাণ হয় যে তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিএনপি মনে করে, তাদের দুর্নীতি তদন্ত হওয়া দরকার।
দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা জানেন দেশের সব দ্রব্যমূল্য এখন আকাশচুম্বী হয়েছে। মানুষ এতে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে। দিন দিন সবকিছুর দাম বেড়ে চলছে। তাই আমি মনে করি এই সরকারের এসব ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত। আর আমরা এ বিষয়ে আগামী ৩০ ডিসেম্বর বিস্তারিত একটি কনফারেন্স করব।
বৈঠকে অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান।
লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
