খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট)-এ দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্টার্টআপ এক্সেলারেটর প্রোগ্রাম 'হাল্ট প্রাইজ' অন-ক্যাম্পাস রাউন্ডের প্রস্তুতি বিষয়ক কর্মশালা।
প্রতিযোগিতায় কুয়েটে বর্তমানে অধ্যয়নরত যেকোনো শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে তাদেরকে ৩-৪ জনের দল গঠন করে নিজেদের বিজনেস প্ল্যান তৈরি করে টিম হিসেবে অংশগ্রহণ করতে হবে।
'হাল্ট প্রাইজ' হলো এমন এক ইনকিউবেটর প্রোগ্রাম, যা মূলত তরুণদের তাদের মেধা-মনন ব্যবহার করে সামাজিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রদান করার মাধ্যমে নতুন এক আগামীর দিকে ধাবিত করতে উৎসাহিত করে। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস হাল্ট প্রাইজকে ‘শিক্ষার্থীদের নোবেল পুরস্কার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইতিমধ্যে হাল্ট প্রাইজ কর্তৃপক্ষ এ বছরের (২০১৯-২০) চ্যালেঞ্জ প্রকাশ করেছে। এ বছরের প্রতিযোগীদের মূল লক্ষ্য হবে ‘এমন একটি স্টার্টআপ দাঁড়া করানো, যেখানে প্রতি ডলার লভ্যাংশে পরিবেশের উপর উপযুক্ত প্রভাব পড়বে’।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে ইচ্ছুক সকল ছাত্র-ছাত্রীকে এই বিষয়ে বিস্তারিত অবগত করার জন্য শনিবার কুয়েট বিজনেস অ্যান্ড এ্যান্টারপ্রেনারশিপ ক্লাব (KBEC) হাল্ট প্রাইজ বিষয়ক একটি কর্মশালা এবং সেশন আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে হাল্ট প্রাইজ ফাউন্ডেশনের বর্তমান ক্যাম্পাস ডিরেক্টর অভিষেক দে নিজের অভিজ্ঞতা এবং প্রতিযোগিতার গঠন ও ধরন বিষয়ক বক্তৃতার মাধ্যমে ওয়ার্কশপ সেশনের সূচনা করেন। পরে মাইক্রোসফট ইয়াং বাংলা স্টার্ট আপ চ্যাম্পিয়ন এবং অ্যাডভান্সড বায়ো-ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাব (কুয়েট) এর প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হক একটি সেশন নেন আইডিয়া এবং স্টার্টআপ বিষয়ক। এছাড়া কর্মশালার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুগল বিজনেস গ্রুপ এর ব্যবস্থাপক আতাহার আনসারী। তিনি হাল্ট প্রাইজের এবারের মূল বিষয়, গতানুগতিক সমস্যা, সমস্যাগুলোর বিশ্লেষণ এবং আনুষঙ্গিক বিষয়ে আলোচনা করেন। কর্মশালায় কুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকেরা জানান, অতি শিগগিরই অন ক্যাম্পাস রাউন্ডের প্রতিযোগিতা শুরু হবে। সেখান থেকে সেরা ৩ বিজয়ী দল পরবর্তীতে কুয়ালালামপুর, মেলবোর্ন, সাংহাই, দুবাই, বোস্টন, লন্ডন মুম্বাইসহ মোট ২৫টি দেশের যেকোনো একটি শহরে রিজওনাল রাউন্ডে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পাবে। সেখান থেকে গ্লোবাল ফাইনালিস্ট থেকে চ্যাম্পিয়ন টিমকে ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার দেওয়া হবে তাদের সেই উদ্যোগটিকে বাস্তবে রূপদানের জন্য।
উল্লেখ্য, গত বছর শুধু কুয়েট অনলাইন রাউন্ডেই প্রায় সাড়ে তিন শ টিম অংশগ্রহণ করে। এর মধ্য থেকে বাছাইকৃত ২৪টি টিম পরের রাউন্ডে যায়। সেখান থেকে ৬ জন স্বনামধন্য বিচারক রানার-আপ এবং চ্যাম্পিয়ন নির্বাচন করেন।
