ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে ছাত্রলীগের একাংশের অবরোধে স্থবির চ‌বি

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১৯, ১১:৫২ এএম

নিজেরদের দুই নেতাকে মারধর ও চলমান সংঘর্ষে মদদ‌ দেওয়ার অভিযোগে ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবিতে শাখা ছাত্রলী‌গের সিএফ‌সি গ্রু‌পের অবরোধে স্থবির হয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চ‌বি) ক্যাম্পাস।

আগামী তিন দিন মৌন অবরোধ চ‌ল‌লেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহ‌র পদত্যাগ এবং সিএফ‌সি গ্রু‌পের দুই নেতাকে মারধরকারী‌দের গ্রেপ্তার না করা হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে গ্রু‌পের নেতাকর্মীরা।

বর্তমানে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অবরোধের প্রথম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন চলাচল সচল থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যায়নি কোনো শিক্ষক বাস।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট, প্রশাসনিক ভবন, শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী হ‌ল এবং পরিবহন দপ্তরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন  করা হয়েছে।

আন্দোলনের বিষয়ে সিএফ‌সি গ্রু‌পের নেতা ও শাখা ছাত্রলী‌গের সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, তাপস হত্যার মদদদাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা সিরাজ উদ দৌলার প্রত্যক্ষ মদদে তাপস হত্যার আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাদের দুই নেতার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তিন দিনের মধ্যে সিরাজ উদ দৌল্লাহর পদত্যাগ, আমাদের দুই ছাত্রলীগ নেতার ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

তবে চট্টগ্রামে রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে আমার নেতা নওফেল (শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল) ভাইয়ের পরামর্শে আগামী তিন দিন মৌন অবরোধ চলবে বলে জানান এই ছাত্রলীগ নেতা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চ‌বি প্রক্টর এসএম মনিরুল হাসান দেশ রূপান্তর‌কে বলেন, অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা ক‌রি, তারা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেবে।

তিনি জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে সকাল থেকে শিক্ষক বাসগুলো সকালে ছেড়ে না গেলেও দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এর আগে গত ২৮ ও ২৯ নভেম্বর দুই দফায় সংঘর্ষে জড়ায় শাখা ছাত্রলী‌গের সভাপতি রেজাউল হক রু‌বে‌লের অনুসারী সিএফ‌সি গ্রুপ এবং সাবেক উপ-দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান বিপু‌লের অনুসারী ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এসব ঘটনায় উভয় পক্ষের ১১জন আহত হন।

ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় ২৫টি রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র ও চার বস্তা পাথর উদ্ধার করা হলেও কাউকে আটক করেনি পুলিশ।

পরে রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর এগারো মাইল এলাকায় সিএফ‌সি গ্রু‌পের দুই নেতাকে মারধর করে ভিএক্স গ্রুপের নেতাকর্মীরা।

পরে চলমান সংঘর্ষে মদদদাতা অ্যা‌খা দিয়ে চ‌বি ছাত্র উপদেষ্টা এবং ভিএক্স গ্রু‌পের দুই নেতা বিপুল ও প্রদীপ চক্রবর্তী দুর্জ‌য়ের বহিষ্কারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের ডাক দেয় সিএফ‌সি গ্রুপ।

এছাড়া নিজেদের নেতাকে মারধরের ঘটনায় র‌বিবার রা‌ত ৭টা থেকে দফায় দফায় সিএফ‌সি ও ভিএক্স গ্রুপ রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় । এ সময় উভয় গ্রু‌পের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ চার রাউন্ড টিয়ার‌শেল নিক্ষেপ ও জলকামান ব্যবহার করে।

এ সময় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও চট্টগ্রাম জেলা (উত্তর) পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের গাড়িসহ পুলিশের পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

উল্লেখ্য, বিবাদমান গ্রুপ দুটির মধ্যে সিএফ‌সি গ্রু‌পের কর্মীরা শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর নওফেলের অনুসারী এবং ভিএক্স গ্রু‌পের কর্মীরা চট্টগ্রাম সি‌টি মেয়র আ জ ম না‌সির উদ্দিনের অনুসারী হি‌সে‌বে ক্যাম্পাসে পরিচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত