‘‘স্বপ্ন ছিল টেলিভিশনে নিউজ প্রেজেন্টার হবেন। সে জন্য ‘নিউজ প্রেজেন্টেশন’ নামে একটি কোর্সে ভর্তি হয়ে কোচিং করছিলেন ইডেন মহিলা কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী আকলিমা আক্তার ওরফে জুলিয়া জুঁই (২৩)। আড়াই মাস ধরে কোচিং করছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি এখন তিনি নিজেই নিউজ হয়ে গেলেন।’’
এমনটাই বলছিলেন জুঁইয়ের স্বজন ও সহপাঠীরা।
অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারের উবার চালিত মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় মারা যান তিনি। শনিবার মিরপুরের বাসা থেকে ফার্মগেট যাওয়ার সময় পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন জুঁই।
সোমবার মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি। জুঁই ইডেন মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী ছিলেন।
জুঁইয়ের বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘পড়ালেখার পাশাপাশি জুঁইয় ফার্মগেট এলাকায় একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করত এবং নিজেও কোচিং করত। শনিবার সকালে কোচিং সেন্টারে যাওয়ায় জন্য উবারের মোটরসাইকেলে করে ফার্মগেট যাচ্ছিল। বিজয় সরণিতে সিগন্যালে তাকে বহনকারী মোটরসাইকেলটি থামে। সিগন্যাল ছাড়ার পর চালক দ্রুতগতিতে চালানো শুরু করলে মোটরসাইকেলের পেছন থেকে পড়ে যান সে। এতে তার মাথায় থাকা হেলমেট ভেঙে যায় এবং গুরুতর আহত ও জখম হয় সে। পথচারীরা তাকে আল রাজি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখান থেকে তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়’।
জুঁইয়ের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামে। পরিবারের সঙ্গে মিরপুরের পূর্ব কাজীপাড়া ৫০৩ নম্বর বাড়িতে থাকতেন তিনি। তিন বোনের মধ্যে তিনি ছোট।
মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় কোনো মামলা করবেন না বলে জানান বাবা।
জুঁইয়ের সহপাঠী শামীমা ফেরদৌস লিনা বলেন, জুঁই শুক্রবার তার ফেইসবুকের স্ট্যাটাসে উল্লেখ করে, ‘শুধু নক্ষত্রের ঝ’রে পড়া দেখে দেখে রাত বাড়ে, বেলা যায় - অপেক্ষায় ঝরে পড়ে স্বপ্নময় চোখ।’ সেই জুঁইয়ের স্বপ্ন মাটিতে মিশে গেল।
জুঁইয়ের মৃত্যুর পরই স্বজন ও সহপাঠীদের কান্নায় ঢামেক হাসপাতাল এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিবেশ তৈরি হয়।
জুঁইয়ের বাবা বলেন, ‘পড়ে গিয়ে আমার মেয়ে চালক সুমনকে শুধু বলেছিল, ভাই আমাকে একটু বাঁচান। আর একটি কথাও বলতে পারেনি আমার মেয়ে। আমার মায়ের মাথায় কোনো আঘাতও দেখা যায়নি। শুধু কান দিয়ে রক্ত বের ঝরছিল। পরে উবার চালক সুমনই তাকে হাসপাতালে নেন’।
তিনি চোখের বলেন, ‘আমার মা চলে গেছে। এতে আমি কারও দোষ দেব না। আমার মায়ের হায়াত নাই। আল্লাহ তারে নিয়ে গেছেন’।
তেজগাঁও থানার ওসি শামীম উর রশিদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় ইডেন কলেজ শিক্ষার্থীর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর খবর শুনেছি। পরিবার যদি মামলা করে তাহলে মামলা নেওয়া হবে। তার পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে’।
