কোনো ধরনের ফিটনেস ছাড়াই নারায়ণগঞ্জ শহর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুরন্ত পরিবহনের বিপুলসংখ্যক বাস। শহরের চাষাঢ়া থেকে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে বাসগুলো। একদিকে বাসগুলোর লক্কড়-ঝক্কড় অবস্থা অন্যদিকে বেপরোয়া গতি। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে যত্রতত্র অবৈধ পার্কিং। সড়কের মোড়ে মোড়ে বাসগুলোর অবৈধ অবস্থান তৈরি করছে যানজট। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে নগরবাসী। বিকল্প হিসেবে ভালো কোনো পরিবহন না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে সাধারণ মানুষ। এসব অনিয়ম ও ভোগান্তির বিষয়ে প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
যাত্রীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই লাগামহীনভাবে চলছে বাসগুলো। এ পরিবহনের বাসগুলো চালাতে কোনো কাগজপত্রও লাগে না। লক্কড়-ঝক্কড় গাড়িগুলো যেখানে সেখানেই বিকল হয়ে পড়ে। সিটিং ভাড়া আদায় করেও দাঁড় করিয়ে যাত্রী নেওয়া হয়। এছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। ১২ সিটের গাড়িকে বানানো হয়েছে ২৫ সিটের। নিয়মবহির্ভূত সিট বাড়ানোর কারণে যাত্রীদের বসতে অসুবিধা হয়। দুজনের সিটে গাদাগাদি করে অনেককে বসতে হয়।
যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে হরহামেশাই চালক ও সহযোগীদের বাগ্বিত-া হয়। একদিকে ফিটনেসবিহীন অবস্থা অন্যদিকে অদক্ষ চালকরা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। এতে জীবন দিতে হচ্ছে যাত্রী ও পথচারীদের। মানুষ মারার যম জেনেও প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীরা চলাচল করছে। এ বাস এখনই বন্ধ না করলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, চাষাঢ়া থেকে চিটাগাং রোড পর্যন্ত চলাচলকারী দুরন্ত পরিবহনের বাস ৬২টি। বাসগুলোর একটিরও ফিটনেস নেই। কোনোটিকেই অনুমোদন দেওয়ার অবস্থাও নেই। এছাড়া ৯৫ শতাংশ বাসচালকেরই কোনো লাইসেন্স নেই। এসব চালকের অধিকাংশ মাদকাসক্ত। মাদক সেবন করেই গাড়ি চালায় তারা। যার কারণে সড়কে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধু তাই নয়, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলে কথা বলার নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চালকরা সে আইন মানছে না। এসব নিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে তারা। সেই সঙ্গে পরিচিতজনকে পাশে বসিয়ে হাসিঠাট্টা করতে করতে গাড়ি চালিয়ে থাকে চালকরা। এর ফলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আছে কি না সে বিষয়ে জানতে চাইলে দুরন্ত পরিবহন মালিকদের মধ্যে একজন আবু মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি জানি না। আরেক মালিক রমজান হোসেন মোল্লার সঙ্গে কথা বলেন।’ পরে রমজান হোসেনকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব কাগজপত্র আছে। আপনারা পারলে অটোরিকশার ব্যাপারে কিছু লেখেন। আপনাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করব। আমাদের গাড়ি নিয়ে কিছু লিখবেন না।’
নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশের টিআই মো. সাইফুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেসব গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই, সেসব গাড়ি অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অবৈধ গাড়ির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনো গাড়িই সড়কে চলাচল করতে পারবে না। অবৈধ গাড়ি ধরতে অচিরেই অভিযান চালানো হবে।’
