মরার পরে পাব বয়স্ক ভাতা: সত্তরোর্ধ্ব লাল মিয়া

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৮ পিএম

লাল মিয়া মৃধা। বয়স ৭০ বছর। পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের ছোনখোলা গ্রামের ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করা কর্মক্ষমহীন এ মানুষটির বর্তমানে জীবন সংগ্রাম চলে ভিক্ষা করে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে বেশি দূর হাঁটতেও পারেন না। তাই ভিক্ষা করে যে টাকা পান তা দিয়ে কোনো রকম জোগাড় হয় দুই বেলার খাবার। এক বেলা থাকেন না খেয়ে।

আলাপচারিতায় লাল মিয়া জানান, মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পর অনেকটা নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি। বয়সের ভারে বন্ধ হয়ে যায় আয় রোজগার। ছেলে বিয়ে করে অন্যত্র চলে যায়। স্ত্রীও তাকে ফেলে চলে গেছে।

তিনি বলেন, ক্ষুধার তাড়নায় নেমে পড়েছি ভিক্ষায়। বয়স্ক ভাতার জন্য চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েছি। মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছি কয়েকবার। তারা শুধু বলে হবে। আকুতি-মিনতিই সার। ভাগ্যে আজও জোটেনি বয়স্ক ভাতা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মনে হয় আমি মরার পরে পাব বয়স্ক ভাতা।

ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বিশ্বাস তপন জানান, ৬০ বছরের ওপরে যাদের বয়স, তাদের নাম লিস্ট করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়ার জন্য ইউপি সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লাল মিয়ার নাম সে তালিকায় রয়েছে। আশা করছি তিনি বয়স্ক ভাতায় অন্তর্ভূক্ত হবেন।

কলাপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বয়স্ক ভাতার তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্ত করার একমাত্র এখতিয়ার ইউনিয়ন কমিটির। ইউনিয়ন কমিটি লাল মিয়ার নাম অন্তর্ভূক্ত না করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত