ইয়ান বিশপ নামটা ক্যারিবিয়ান পেস ইতিহাসে অবশ্যই থাকবে, যদিও ওপরের দিকে নয়। কারণটা তার পারফরম্যান্স নয়, ইনজুরি। ইনজুরির কারণে ক্যারিয়ার ছোট হয়েছিল এই ত্রিনিদাদিয়ানের। নয়তো ক্রিকেটকে আরও কিছু দিতেন। ৪৩ টেস্টে ১৬১ উইকেট ও ৮৪ ওয়ানডেতে ১১৮ উইকেট পাওয়া এই সাবেক পেসার দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে আছেন ক্রিকেট ধারাভাষ্যে। সম্পªতি ক্রিকইনফো তার সঙ্গে কথা বলেছে। কথায়-কথায় উঠে এলো বর্তমান পেসারদের নিয়ে তার চিন্তা ও আরও কিছু–
সম্প্রতি ক্রিকেট বিশ্ব জুড়েই ফাস্ট বোলিংয়ের একটি বিপ্লব ঘটেছে। বিশেষ করে গত দুই বছরে সব দলই পেস বিভাগে উন্নতি করছে। এমনটা হওয়ার কারণ কী বলে মনে করেন?
বিশপ : সঠিক বলতে পারি না। তবে এটা এখন আধুনিকতার ঝড়। যদি আমাদের ক্যারিবিয়ানের কথা বলি, আমরা গত দুই-তিন মৌসুম ধরে চেষ্টা করছি সিমার বান্ধব উইকেট বানাতে। যেন হোল্ডার, রোচ, গ্যাবরিয়েলদের মতো বোলাররা সুবিধা পায়। এর মাধ্যমে আমরা সত্যিই সুবিধা পাচ্ছি। তবে এখন যেটা হচ্ছে দলগুলো দেশে এবং দেশের বাইরে ভালো করতে চায়। বিশ্বের এক নম্বর দল হতে চায়। এজন্য আপনার বোলিং শক্তি লাগবেই। বিদেশে সঠিক কম্বিনেশনের জন্য যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ’৭০, ’৮০ ও ’৯০ এর শেষদিকে চেষ্টা করেছিল, যেমনটা অস্ট্রেলিয়া গত দুই দশক ধরে করে আসছে এখনকার দলগুলোও সাফল্যের জন্য সেই পথে হাঁটছে।
২০১৭ সালে আপনাতে প্রশ্ন করা হয়েছিল বর্তমান পেস অ্যাটাক ভারতের সেরা কিনা? আপনি বলেছিলেন– অবশ্যই। তাদের পেস অ্যাটাকের এখন যা অবস্থা তাতে আপনার কী ধারণা– তারা কতদূর যেতে পারে?
বিশপ : আসলে ভারতের এখনকার যে বোলাররা তারা একদিনে আসেনি। আমাদের সময়ে কপিল দেব ছিল, শ্রীনাথকে দেখেছি, পরে জহির খান, মুনাফ প্যাটেল, শ্রীশান্ত এই পেসারার কিন্তু একটা পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাই ওদের ক্রেডিট দিতেই হবে। দুই বছর আগে এখনকার পেসাররাই সেরা ছিল। সামি-ইশান্তরা সুইং বোলিংকে অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সে সময় অবশ্যই আমি এমনটা বলতাম না যে ওরা এটা করবে। এটা বলতাম না যে যুগ যুগ আমাদের পেসাররা ওদের ওপর যে আক্রমণ করেছে সেটা ওরা ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু এখন তারা দিচ্ছে। এটা অবশ্যই দীর্ঘ চেষ্টার ফল। তাছাড়া ওরা এখন বিরাট কোহলিকে নেতৃত্বে পেয়েছে, যে কিনা পেসারদের সামনে রাখতে চায়।
ভারতের এই পেস জেনারেশনকে ক্যারিবীয় পেস কোয়াট্রেটের সঙ্গে এখনো তুলনায় আনা যাবে কি?
বিশপ : ওরা পারফরম করছে, আপনি শুধু এটাকেই তুলনায় আনতে পারেন। এর বেশি আমি কিছু বলতে পারছি না। কারণ জানিনা কে কীভাবে মাপছে। মানুষ যখন মাইকেল (হোল্ডিং), কলিন (ক্রফট), ম্যালকম (মার্শাল), জোয়েল (গার্নার) ও অ্যান্ডিদের (রবার্টস) – নাম নেয়, তখন ওদের নামের সঙ্গে আর কোনো পেসারদের কীভাবে মেলাবেন?
আরেকটা ধারণা জন্মাচ্ছে যে এই সময়ে ব্যাটিংটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আপনার কী মনে হয়?
বিশপ : আমি এটা মনে করি না। কারণ আমি এই সময়ে স্টিভেন স্মিথ, বিরাট কোহলি, কেন উইলিয়ামসন ও জো রুটদের ব্যাটিং উপভোগ করি। এছাড়া অনেক ভালো ব্যাটিং লাইন আপ আছে এখন। যদি বলেন এগুলো ২৫ বছর আগের কোনো দলের সঙ্গে যায় কি না বা অস্ট্রেলিয়া গত ১৫ বছর আগে যা তৈরি করেছিল তার সঙ্গে যায় কি না, সেটা হয়তো হচ্ছে না। কিন্তু এখন যা আছে সেটাকেই বাহবা দিতে হবে।
বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন পেসারদের খেলা দেখতে টিভির সামনে আপনাকে বসতেই হয়। মানে তাদের দেখা ছাড়া আপনি থাকতে পারেন না?
বিশপ : এ তালিকায় অনেক আছে। জোফরা আর্চার, আমি সব সময়ই মনে করি সে যখন ছন্দে থাকে তাকে দেখাটা সত্যিই আনন্দদায়ক। এছাড়া নাসিম শাহ, জাসপ্রিত বুমরাহ, শামি (ওহ, শামি)…আমি আসলে ভারতের চার পেসারের কাউকেই বাছাই করতে চাই না। সবার বোলিং আমার ভালো লাগে। এছাড়া মিচেল স্টার্ক, হ্যাজেলউড, কেগিসো রাবাদা, কেমার রোচ, লোকি ফার্গুসন, নিল ওয়াগনার…আসলে অনেকেই আছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এখন এমন একটা অবস্থা যে টিভি অন করলেই কোনো না কোনো পছন্দের পেসারদের দেখছি। এটাই দারুণ ব্যাপার।
আর্চারের বোলিং রানআপ কিন্তু আক্ষরিক পেসারদের মতো না। শুধু জগিংয়ের মতো দৌড়ে এসেও ১৫০ গতি সে কীভাবে তোলে। আপনার কাছে কি এটা অবিশ্বাস্য মনে হয় না?
বিশপ : আসল কথা হলো, সে কিন্তু জগিং করে না। তার দৌড়ের স্টাইলটাই এমন যে দেখে মনে হয় সে জগিং করে আসছে। এটা তার দৌড়ের স্টাইল। বিশ্বের কোনো পেসারও কখনো জগিং করে ১৪৫ বা ১৫০ তুলেনি, পারবেও না। একটি ভালো দৌড় ছাড়া আপনি তো পেসই তুলতে পারবেন না। নিউজিল্যান্ডে আর্চারের পেস একটু কমেছে কিন্তু সেটা হয়তো কোনো কারণে। কিন্তু অ্যাশেজে তাকে যখন দেখেছি তখন মনে হয়নি সে জগিং করে আসছে। ওর দৌড়টাই এমন শুধু।
আপনার ক্যারিয়ারে যাদের সঙ্গে বা বিপক্ষে খেলেছেন, অথবা এখন যাদের দেখছেন সবার মধ্যে কাকে সেরা পেসার বলবেন?
বিশপ : (একটু ভেবে) ম্যালকম মার্শাল। আমার দেখা সবচেয়ে সেরা, স্মার্ট, বুদ্ধিমান পেসার। সে একজন সেরা শিক্ষকও। আর অবশ্যই আমি এটা জোর দিয়ে বলছি। যখন আমি জাতীয় দলে আসি, ১৯৮৮, ’৮৯ ও ’৯০ এর দিকে ম্যালকম আমাকে মিড-অনে দাঁড় করাত। আর পুরোটা সময় কেন এই ডেলিভারি দিল, কেন এভাবে ফিল্ড চেঞ্জ করল, কেন এই ফিল্ডারটাকে ওখানে রাখল, কোন বল করতে যাচ্ছে, কোন অ্যাঙ্গেল তৈরি করতে যাচ্ছে এসব বলত। আমি ওর প্রতিটা ডেলিভারি দেখতাম আর মুগ্ধ হতাম।
