ভাতাসহ সাত দফা দাবিতে সমাবেশ মুক্তিযোদ্ধা লীগের

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:১৪ এএম

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) যাচাই কমিটির তালিকা থেকে বাদপড়া মুক্তিযোদ্ধাদের বন্ধ হওয়া ভাতা চালুসহ সাত দফা দাবি আদায়ে রাজধানীতে সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ। গতকাল রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি। সমাবেশে বিভিন্ন জেলার যাচাই-বাছাই পর্বে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি শুনানি শেষ হওয়ার আগেই তাদের ভাতা বন্ধ করা অযৌক্তিক।

গত এপ্রিল থেকে বন্ধ রয়েছে গেজেটধারী ২ হাজার ১৮৮ জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা। এদের অনেকের নাম লাল মুক্তিবার্তায়ও রয়েছে। যাচাই-বাছাই কমিটি ‘অমুক্তিযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে গেজেটসহ সনদ বাতিল করার সুপারিশ করায় তখন ‘গ’ তালিকাভুক্ত এসব মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

সমাবেশে সংগঠনের সভাপতি মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ১১ বছর ক্ষমতায় আছে, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের সমস্যার সমাধান ও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। এতদিন ক্ষমতায় থাকার পরও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী সঠিক মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করতে পারেননি। যাচাই-বাছাইয়ে যারা না-মঞ্জুরকৃত হয়েছিল তাদের আপিল করার সুযোগ দিয়েছিল এবং আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের ভাতা বন্ধ করা যাবে না বলে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ ছিল। কিন্তু পরে মন্ত্রণালয় ভাতা বন্ধ করে দেয়। আমাদের দাবি শিগগিরই আমাদের বন্ধ ভাতা চালু করাসহ সাত দাবি মেনে নেওয়া হোক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি আমাদের অভিভাবক। আপনি আমাদের অনেক দাবি মেনে নিয়েছিলেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের ভুল সিদ্ধান্তে মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আপনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’ ১৬ ডিসেম্বরের আগে দাবি না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

তাদের দাবিগুলো হলো– মুক্তিযোদ্ধাদের বন্ধ ভাতা চালু করা, যেসব মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিবার্তা, গেজেট, ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা ও প্রধানমন্ত্রীর সনদ আছে তাদের কোনো যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন নেই, সব মুক্তিযোদ্ধার ২০১৯ সালের মহান বিজয় দিবসে ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া, যেখানে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয় ও একজন মন্ত্রী আছে সেখানে জামুকার কোনো প্রয়োজন নেই, মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মসংস্থানের জন্য ২০ লাখ টাকা বিনা সুদে ব্যাংক ঋণ এবং মাসিক ভাতা ২০ হাজার টাকা করা, মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য স্বতন্ত্র হাসপাতাল নির্মাণ করা এবং অনলাইনে যাচাই-বাছাই করা মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট ও জাতীয় তালিকা প্রকাশ করে ভাতা মঞ্জুর করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত