খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন বাস্তবায়নে দুর্নীতি এবং ভবন নির্মাণে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান।
৩ ডিসেম্বর খুবির ৪২ শিক্ষক রেজিস্ট্রার বরাবর এ-সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। অভিযোগে শিক্ষকরা জানান, কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, অপরাজিতা হল, অতিথি হাউস, লাইব্রেরি ভবনসহ নতুন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিম্নমানের কাজ, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দেশ রূপান্তর পত্রিকায় ৭ ডিসেম্বর এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
এরপর সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ প্রশাসন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এসব দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাস্তবায়িত উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে উপাচার্য লিখিত বক্তব্যে জানান, কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবন নির্মাণে ত্রুটির বিষয়টি নজরে আসামাত্র তা নিরূপণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী ভবনের পুরুত্ব কম হওয়ার প্রমাণ মেলায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। পরে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় একই ঠিকাদার দিয়ে ভবনটির রেটরোফিটিং করা হয়। এসব কাজের যাবতীয় ব্যয় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্য অর্থ থেকেই পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে ভবনটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।
এ ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগের ক্ষেত্রে নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। দুর্নীতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত দুটি কমিটি ও দুদকের তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
এ সময় ভবন নির্মাণে অনিয়মের কথা স্বীকার করে উপাচার্য জানান, যেহেতু ভবন দুটি নির্মাণকাজে অনিয়ম, ত্রুটি ও দুর্নীতির বিষয়টি দুদক তদন্ত করছে, তাই তাদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পত্র পাঠানো হয়েছে। এতে জানতে চাওয়া হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এ ব্যাপারে অভ্যন্তরীণভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে বাধা আছে কি না। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে রয়েছে। তবে দুদক এ ব্যাপারে উত্তর দেয়নি।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় করে কেউ পার পাবে না। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বলেন, যে ২৩টি ত্রুটি বা সমস্যার কথা বলা হয়েছে, তা পূর্বনির্মিত ভবনের। ভবনটি ব্যবহারের পর স্বাভাবিকভাবেই এসব ত্রুটি ধরা পড়ে, যা একই ঠিকাদারকে দিয়ে ঠিক করা হয়। তবে নতুন নির্মিতব্য ভবনে এমন কোনো ত্রুটির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বরং পূর্বের বিল্ডিংয়ের ত্রুটিগুলোর সুপারিশ এখানে করা হয়েছে। ছাত্রীরা আবাসন সংকটসহ অন্য যেসব অভিযোগ করেছে, তা ভিত্তিহীন।
বিভিন্ন ভবনের বৈদ্যুতিক কাজে বিপুল দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বলেন, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল, অপরাজিত হল, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলসহ প্রায় সব ভবনেই বিদ্যুৎ কাজে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুস সালাম দুদকে চিঠি দিয়েছেন এবং তারা কাজ করছে। দুর্নীতি হয়ে থাকলে যারা এর সঙ্গে যুক্ত তদন্তের মাধ্যমে তারা সবাই আইনের আওতায় আসবে বলে কর্তৃপক্ষ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে। ত্রুটিপূর্ণ কাজ করার বিনিময়ে যদি কোনো আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকে তা তথ্য প্রমাণ সাপেক্ষে অবশ্যই দুদক বিবেচনায় নেবে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় করে কেউ পার পেয়ে যাবে তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার বিষয়েও ব্যাখ্যা দিয়ে উপাচার্য বলেন, টেন্ডারের মাধ্যমে পরামর্শক নিযুক্ত করে নকশা পেতে প্রায় এক বছর চলে যায়। এরপর পাঁচটি স্থাপনার টেন্ডার করা হয়। স্থাপত্য নকশার ক্ষেত্রে স্থপতিদের মূল্যায়নের একটা নিয়ম রয়েছে। এ মূল্যায়নের ফলাফল পেতে অনেক সময় ব্যয় হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার, রেজিস্ট্রার, ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও প্রধান প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।
