বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘মুজিব হত্যার সমর্থনকারী বহু নেতাই আপনার নেতৃত্বে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন।’
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে বাড্ডায় বিক্ষোভ সমাবেশ পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে রিজভী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত না হয়ে আজকে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) নিজের ঘরের দিকে তাকান। আমি বলব- আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন আর ভাবুন যে, কারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন?’
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।’
শনিবার এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খন্দকার মোস্তাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক ছিলেন জিয়া। যদি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়া জড়িত না-ই থাকবেন, তবে খন্দকার মোস্তাক তাকে কেন সেনাপ্রধান বানিয়েছিলেন?’
ওই বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ‘১৯৭০ সালে মেজর পদে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন কেএম সফিউল্লাহ। ১৯৭২ সালের ৫ এপ্রিল মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান কেএম সফিউল্লাহকে ডেকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে বলেন। তখন দেশের সামরিক বাহিনীর প্রধান অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন এমএজি ওসমানী।’
তিনি বলেন, ‘সফিউল্লাহর পদবি তখন লে. কর্নেল ছিল (যুদ্ধের সময় পদোন্নতিপ্রাপ্ত)। তিনি সেনাপ্রধান হতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিতে হয় এবং তাকে পূর্ণ কর্নেল পদে উন্নীত করা হয়। অথচ জিয়াউর রহমান ছিলেন সে সময়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।’
রিজভী আরও বলেন, ‘১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সফিউল্লাহ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। সেসময়ই তো শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ১৬ বছর কেএম সফিউল্লাহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘কেএম সফিউল্লাহ ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন। কই, প্রধানমন্ত্রী তো সে বিষয়ে কিছু বলেননি!’
এসময় দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও সম্পাদককে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, ‘আজকে দেশে গণতন্ত্র নেই। গণমাধ্যমের মতপ্রকাশ ও মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কারও সঙ্গে কারও মতের মিল না থাকতে পারে। রাজনীতিতে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে এটা স্বাভাবিক। তাই বলে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ফ্যাসিবাদী শাসনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হয়।’
সর্বোচ্চ আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন খারিজের প্রতিবাদ এবং তাকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবিতে পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। পুলিশ মিছিলে ধাওয়া দিয়ে চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি।
