মোশাররফের মৃতদেহ রাস্তার ধারে তিন দিন ঝুলিয়ে রাখার নির্দেশ!

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৮:৩০ পিএম

ফাঁসি দেওয়ার আগে পাকিস্তানের প্রাক্তন সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের মৃত্যু হলে তার লাশ এনে তিন দিন ধরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে দেশটির আদালত।

প্রসঙ্গত, দেশদ্রোহিতার দায়ে ৭৬ বছর বয়সী পারভেজ মোশাররফকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে পাকিস্তানের কোর্ট। মোশাররফ চিকিৎসার জন্য দুবাইয়ে অবস্থান করছেন। সূত্র: দা ওয়াল।

বৃহস্পতিবার প্রশ্ন ওঠে, ফাঁসি দেওয়ার আগেই যদি মোশাররফের মৃত্যু হয়, তা হলে কী হবে? তখনই কোর্ট নির্দেশ দেয়, সে ক্ষেত্রে সংসদ ভবনের ঠিক উল্টো দিকে অবস্থিত ইসলামাবাদের ডি চৌকে তার মৃতদেহটি টেনে আনতে হবে। সেখানে তিন দিন ধরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

পাকিস্তানের আইন বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই আদালতের এই নির্দেশ সংবিধানবিরোধী বলে মন্তব্য করেছেন।

এ রায়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী মোটেই সন্তুষ্ট হয়নি। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মোশাররফ যা-ই করে থাকুন, তিনি যে দেশপ্রেমিক সে কথা অস্বীকার করা যায় না। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা মেটাতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফিরদৌস আশিক আওয়ান বলেন, সরকারের কৌঁসুলিরা ওই রায়ের মধ্যে অনেক ‘ফাঁক’ খুঁজে পেয়েছেন।

মোশাররফের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা সুপ্রিম কোর্টে মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আবেদন করবেন। সরকারি কৌঁসুলিরাও মোশাররফের আইনজীবীদের আবেদনের বিরোধিতা করবে না বলে জানা গেছে।

এর আগে একবারই পাকিস্তানে এ ধরনের রায় দেওয়া হয়েছিল। এক কুখ্যাত খুনি সম্পর্কে বিচারক রায় দিয়েছিলেন, প্রকাশ্যে তাকে ফাঁসি দিতে হবে। সে যাদের খুন করেছে, তাদের পরিবারের লোকজনের সামনে দেহটি কেটে ১০০ টুকরো করতে হবে। যদিও সেই দণ্ডাদেশ কখনো কার্যকর করা হয়নি।

১৯৯৯ সালে সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে মোশাররফ পাকিস্তানের ক্ষমতায় আসেন। ২০০৭ সালে তিনি সংবিধানকে ‘সাসপেন্ড’ করে জরুরি অবস্থা জারি করেন। তার বিরুদ্ধে নানা মহল থেকে প্রতিবাদ হয়। ২০০৮ সালে ইমপিচমেন্টের ভয়ে মোশাররফ নিজেই ক্ষমতা ছেড়ে সরে দাঁড়ান। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা চালু করেন নওয়াজ শরিফ। সেই মামলায় মঙ্গলবার প্রাক্তন সেনাপ্রধানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত