চারদিকে সাগরের নিঃসীম জলরাশির মাঝে মাইলের পর মাইল ধু ধু বালুচর নিয়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে উঠেছে চর বিজয়। ম্যানগ্রোভ প্রজাতির উদ্ভিদ এবং গুল্ম লতাপাতায় সমৃদ্ধ কোলাহল মুক্ত, নিরিবিলি পরিবেশ আর অফুরন্ত খাবারের জন্য কয়েক লাখ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখি আর লাল কাঁকড়ার কাছে চর বিজয় হয়ে উঠেছে অস্থায়ী নিরাপদ আবাসস্থল।

প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিন/চার ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকলেও শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের বুকে চার থেকে সাত ফুট উচ্চতায় জেগে ওঠে এই চরটি।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পূর্ব দক্ষিণে গভীর সমুদ্রে চর বিজয় জেলেসহ স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘ বছর ধরে হাইরের চর নামে পরিচিত। প্রায় ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য এবং আড়াই কিলোমিটার প্রস্থের চরটি অনেকের কাছে ডুবোচর নামেও পরিচিত। প্রচুর মাছ পাওয়া যায় বলে চরটির চারপাশ ঘিরে সারা বছর থাকে কয়েক হাজার জেলের উপস্থিতি। কুয়াকাটা সৈকত থেকে টুরিস্ট বোট নিয়ে মাত্র দেড় ঘণ্টায় পৌঁছানো যায় চরটিতে।

জেলেদের মুখে শুনে ২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর হোসাইন আমির, জনি আলমগীরসহ কুয়াকাটার বেশ কয়েকজন টুরিজম ব্যবসায়ী এ চরটিতে ঘুরতে গিয়ে নামকরণ করেন ‘চর বিজয়’। এ সময় জাতীয় পতাকা ও সাইনবোর্ড উত্তোলন করেন তারা। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজয়ের মাসে আবিষ্কৃত এ দ্বীপটির আনুষ্ঠানিক নামকরণ করেন ‘চর বিজয়’। চরটিকে দৃশ্যমান সমভূমি করে গড়ে তুলতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ২ হাজার চারা রোপণ করে।
জেলেরা জানান, বর্ষা মৌসুমের ছয় মাস চরটি সাগরের ৩/৪ ফুট পানিতে ডুবে থাকলেও এবার বর্ষায় চরটি ডুবে যায়নি। শীত মৌসুমে জেলেরা ছোট ডেরা তৈরি করে শুঁটকি তৈরির জন্য দুই তিন মাস অবস্থান করেন এখানে।

ইতিমধ্যে পর্যটন নগরী কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবসায়ীদের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার হয়ে দাঁড়িয়েছে চর বিজয়। জমজমাট হয়ে উঠেছে তাদের পর্যটন ব্যবসা। দিনদিন আগ্রহ বাড়ছে পর্যটকদের। এতে অতিথি পাখি, লাল কাঁকড়াসহ চরের জীববৈচিত্র্য পড়ছে হুমকির মুখে। চর বিজয়ের জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণে পর্যটকদের ভ্রমণ সীমিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
টুরিজম ব্যবসায়ী হোসাইন আমির বলেন, সম্ভাবনাময় এই চরটি ইতিমধ্যে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়েছে। দিন দিন বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা।

পর্যটক দম্পতি সীমা ও আক্তার হোসেন বলেন, চারদিকে সমুদ্রের অপার জলরাশির মাঝে মনোমুগ্ধকর দ্বীপ চর বিজয়। এই একই স্থানে দাঁড়িয়ে অবলোকন করা যায় সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের দৃশ্য। জেলেদের মাছ শিকারের দৃশ্য, চরের চারপাশে আছড়ে পড়া ঢেউ’র শব্দ, হরেক প্রজাতির পাখির কলতানসহ বর্ণিল আলপনা একে অজস্র লাল কাঁকড়ার অবাধে ছুটে বেড়ানোর নান্দনিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান জানান, চর বিজয় অতিথি পাখিদের অভয়ারণ্য। এটি রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
