ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ও নাগরিকত্ব তালিকাকে (এনআরসি) দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
ভারতজুড়ে সিএএ ও এনআরসি বিরোধী চলমান বিক্ষোভের মুহূর্তে দেশটির সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এ কথা বলেন তিনি।
ভারতের যে কোনো 'অনিশ্চয়তা' বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আব্দুল মোমেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের এক নম্বর বন্ধু। ফলে সেখানে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা প্রতিবেশীদের ওপরে প্রভাব ফেলবে। যখন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দা চলে তখন তা অনেক দেশের ওপর প্রভাব ফেলে। কারণ আমরা বিশ্বায়নের যুগে বাস করছি। আমরা আশঙ্কা করছি, ভারতের কোনো অনিশ্চয়তা পরিস্থিতি প্রতিবেশীদের ওপরও প্রভাব ফেলবে।’
ভারতে চলমান বিক্ষোভ ও সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি উদ্বেগজনক। আমরা আশা প্রকাশ করছি, ভারতের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসবে এবং দেশটি সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।’
দেশটির সিএএ ও এনআরসি নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘এটি তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে আমাদের কোনো বিষয় নেই। তাদেরই উচিত বিষয়টি মোকাবিলা করা।’
এ প্রসঙ্গে এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেছিলেন, ভারতের ওপর বাংলাদেশের আস্থা আছে।
সিএএ ও এনআরসির মাধ্যমে 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের' ভারত থেকে বের করে দেয়ার বিষয়টি একাধিকবার বিজেপি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের বক্তব্যে উঠে আসে।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিশ্চিত করেন, বিষয়টি বাংলাদেশের ওপর কোনোভাবে প্রভাব ফেলবে না।
এদিকে সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফর করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়। সফর বাতিলের কারণ হিসেবে ঢাকা জানায়, বিজয় দিবসের আগে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ততার কারণে মন্ত্রীরা এই সফর বাতিল করেছেন।
তবে বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ভারতের এনআরসি এবং পরে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পার্লামেন্টে উত্থাপনের সময় বাংলাদেশ সম্পর্কে বক্তব্য নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে ঢাকা এবং এই সফর বাতিলের মাধ্যমে তার একটা প্রকাশ দেখানো হয়েছে।
