প্রধান শিক্ষককে নির্বিঘ্নে পেটানোর পর জামিনও পেলেন আওয়ামী লীগ নেতা

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ০৫:১২ পিএম

নাটোরে শিক্ষক মতিয়ার রহমান মিলনকে মারধরের মামলায় গ্রেপ্তারের পর সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহেদুল ইসলাম জামিনও পেয়েছেন সহজে। তিনিসহ দুজনকে এ মামলায় বুধবার রাতে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালত তাদের জামিন দেয়।

বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের আটক করে সিংড়া থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার নাটোর আদালতে পাঠালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক মো. রেজাউল করিম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

সিংড়া থানার ওসি নুর-এ-আলম সিদ্দিকী মামলা ও গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

সিংড়া থানা ও মামলা সূত্র জানায়, সিংড়া উপজেলার দামকুড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মতিয়ার রহমান মিলন বুধবার কালীগঞ্জ বাজারের স্কুল রোডে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় চৌগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল ইসলাম ভোলা ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন মিলনের ওপর হামলা করে।

এ সময় মিলন এবং তার বড় ভাই ইতালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আতাউর রহমান চান্দুকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগে জানা যায়।

পরে স্থানীয়রা মিলনকে উদ্ধার করে সিংড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় রাতেই প্রধান শিক্ষক মিলন বাদী হয়ে চৌগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জাহেদুল ইসলাম ভোলাসহ সাতজনকে আসামি করে সিংড়া থানায় মামলা দায়ের করেন।

রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিংড়া থানা পুলিশ জাহেদুল ইসলাম ভোলা এবং তার ভাগনে মাসুদকে গ্রেপ্তার করে তাদের আদালতে পাঠালে বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতে প্রতিবেদন না আসা পর্যন্ত এই জামিন বহাল থাকবে বলেও আদালত নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে দামকুড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মতিয়ার রহমান মিলন বলেন, বিদ্যালয় থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ভোলাসহ একটি চক্র নানাভাবে আমাকে হত্যাসহ মারপিটের হুমকি দিয়ে আসছিল। আমি বৈধভাবে নিয়োগ পাওয়ার পরও তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনসহ সবার কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা জাহেদুল ইসলাম ভোলা বলেন, ‘মিলন ওই স্কুলের কেউ না। আমরা আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে একাধিকবার সালিস করেছি। তাকে সাড়ে ছয় লাখ টাকা দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। সে স্কুলের কেউ না হয়েও বিভিন্নভাবে ঝামেলা তৈরি করছে’।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত