১৩ জনই বৈধ, অবৈধ কেবল জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:৫১ পিএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিএনপিসহ দলীয় সাত প্রার্থীর মনোয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে, ঢাকা উত্তর সিটির নির্বাচনে সাত মেয়র পদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছাড়া বাকি ছয় প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে ইসি।

কমিশনের এ সিদ্ধান্তে দুই সিটির ১৪ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে ভোট যুদ্ধে টিকে রইলেন ১৩ জন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গোপীবাগে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন ও রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনআইএলজি ভবনে ঢাকা উত্তরের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের আবুল কাসেম এ সিদ্ধান্ত দেন।

উত্তর সিটিতে ৩৭৪ সাধারণ কাউন্সিলরদের ১৫ জন এবং ৮৯ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের মধ্যে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

দক্ষিণ সিটির বৈধ মেয়র প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস, বিএনপির ইশরাক হোসেন, জাতীয় পার্টির হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান, এনপিপির বাহারানে সুলতান বাহার, গণফ্রন্টের আব্দুস সামাদ সুজন ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের আকতারুজ্জামান ওরফে আয়াতুল্লাহ।

উত্তর সিটির বৈধ প্রার্থীরা হলেন আওয়ামী লীগের আতিকুল ইসলাম, বিএনপির তাবিথ আওয়াল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ, সিপিবির আহম্মেদ সাজেদুল হক রুবেল, এনপিপির আনিসুর রহমান দেওয়ান ও পিডিপির শাহীন খান।

উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী জি এম কামরুল ইসলাম সিটি করপোরেশনের ভোটার নন বলে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করতে পারেনি।

মেয়র প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে এই রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন  বলেন, ‘আমাদের ম্যাজিস্ট্রেটরা সক্রিয় আছে, আমি নিজেও মাঠে যাব। নির্বাচন কমিশনের কোনো দল নেই, আমাদের কাছে সব প্রার্থী সমান। শহরের নাগরিকদের যেন কোনো অসুবিধা না হয় তা আপনারা দেখবেন। আচরণবিধি ভঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তাঘাট বন্ধ করে কোনো প্রচার-প্রচারণা আপনারা চালাতে পারবেন না। আপনারা আচরণবিধি মেনে চলবেন’। 

মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা কামরুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ডিওএইচএস এলাকায় থাকি বলে আমার মনোনয়ন বাতিল করা হলো। আমার যে ভোটার তালিকা আছে, দুই নম্বর ওয়ার্ড এবং সিটি করপোরেশন দেখানো হয়েছে। সেহেতু আমি যোগ্য ভোটার হিসেবে জমা দিয়েছি। এখন আমি আইনের সহায়তা নেব।’

এ বিষয়ে ইসির কর্মকর্তারা বলেন, জিএম কামরুল ইসলাম ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকার ভোটার হওয়ায় সিটি করপোরেশনে তার ভোটাধিকার নেই।

এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর বিএনপির প্রার্থী তাবিথ আউয়াল সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈধ হিসেবে ঘোষণা দেওয়াটাকে আমার দলের প্রাথমিক বিজয় হিসেবে ধরে নিচ্ছি। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত অনেক তথ্য পেয়েছি। সরকারের অনেক সংস্থাগুলো তড়িঘড়ি করে অনেক চেষ্টা করেছিল খুঁত বের করার। আমাকে ঋণখেলাপি বলে প্রচার করোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তারা পারেননি।’

তিনি বলেন, আমরা আইন ও প্রচারবিধি মেনেই নির্বাচনি প্রচারে আগাব। আমি আশাবাদী, আগামী দিনগুলোতে নির্বাচন কমিশনে যে অভিযোগগুলো রেখেছি, সেগুলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান হবে।

সিপিবির প্রার্থী সাজেদুল হক রুবেল বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড মানে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি নয়। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সিপিবির যে লড়াই, জনগণের ভোটের অধিকার আদায়ের যে লড়াই, সেই লড়াইয়ের অংশ হিসেবে সিপিবি লড়ছি এই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।’

জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুদ্দিন মিলনের মনোনয়নপত্রে নিজের নাম ভুল থাকায় তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হয়। বাকিদের মনোনয়নপত্রের তথ্য সঠিক ছিল। পরে সবার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বৈধতা নিশ্চিত হওয়ার পর মেয়র প্রার্থীরা সবাই একসঙ্গে দাঁড়িয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকার করেন।

৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ‘অত্যন্ত সুষ্ঠু ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ’ হবে আশা প্রকাশ করে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তাপস বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে বলে আমি আশা করি। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সবাইকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই’।

তিনি বলেন, যদি তীব্র শীতও থাকে আমি আপনাদের কাছে আহ্বান করব, ভোরে ঘুম থেকে উঠে আপনার ভোটকেন্দ্রে এসে ভোটের মাধ্যমে আপনাদের সেবককে নির্বাচন করবেন। আমার দল এবং আমার নির্বাচনি কার্যক্রমে যারা অংশ নেবেন সবাইকে অনুরোধ করব কমিশনের সব নিয়মকানুন মেনে প্রচারণা চালাবেন।

বিএনপির প্রার্থী মো. ইশরাক হোসেন বলেন, ‘ভোটাররা অবশ্যই ভোটকেন্দ্রে আসবেন। এটি আপনাদের অধিকার, আপনারা প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলব। একইসঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে যারা কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন তারাও যেন আচরণবিধি মেনে চলেন- বিনীতভাবে এই অনুরোধ করছি।’

রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যাবে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারকে নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল  ৩১ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিন ছিল ২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ জানুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ জানুয়ারি। আর ভোটগ্রহণ হবে ৩০ জানুয়ারি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত