ঘরোয়া ফুটবলে ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস অ্যান্ড সোসাইটির আলাদা খ্যাতি। পুরান ঢাকার দলটা এবারের ফেডারেশন কাপ ফুটবলে যে সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে একের পর এক বড় মাছ ধরে চলেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে টানা তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেডকে বিদায় করে দলটা। এরপর বৃহস্পতিবার সেমিফাইনালে হারিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে। তাতে নিজেদের ৮৭ বছরের ইতিহাসে ঘরোয়া কোনো টুর্নামেন্টে প্রথমবার ফাইনালে পা রেখেছে দলটি।
শিরোপার মঞ্চে পা দিয়ে রহমতগঞ্জ আর পেছন ফিরে তাকাতে চায় না। দলটার সাফল্যের কারিগর কোচ সৈয়দ গোলাম জিলানী দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপে বলে দিলেন, আকাশের চাঁদটাকেই (শিরোপা) এখন ছোঁয়ার স্বপ্ন তার।
শুক্রবার মৌসুম শুরুর এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে শক্তিশালী বসুন্ধরা কিংস ও বাংলাদেশ পুলিশ এফসি। জয়ী দলটাকেই রবিবারের ফাইনালে পাবে রহমতগঞ্জ। যে দলই জয়ী হোক ফেডারেশন কাপ পাবে নতুন এক চ্যাম্পিয়ন।
ফাইনালে পা দিয়ে প্রতিপক্ষ নিয়ে অবশ্য খুব এটা চিন্তিত নন জিলানী। বলছেন, ‘এখন পর্যন্ত বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলেই এ পর্যন্ত আসছি। আমার সহজ কথা, আমাদের হারানোর কিছু নেই। পাওয়ার আছে অনেক কিছু।’ শিরোপার স্বপ্ন প্রসঙ্গে তার অকপট উত্তর, ‘স্বপ্ন কে না দেখে। সবাই তো চাঁদটাকেই ছুঁতে চায়। আমারও ইচ্ছে সেটিই। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছে।’
কোচিং ক্যারিয়ারে গোলাম জিলানী বেশির ভাগ সময়ই কাজ করেছেন বয়স ভিত্তিক দলগুলোকে নিয়ে। তার অধীনে ২০১৫ সালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে শিরোপা জয় করে বাংলাদেশ। ২০০৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাফুফের কোচ তিনি। মূল জাতীয় দলের সহকারী কোচ বা কখনো নারী জাতীয় দলের দায়িত্বেও দেখা গেছে তাকে। ক্লাব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ২০০৮ সালে একবার রহমতগঞ্জেরই কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর গত মৌসুম থেকে ফের রহমতগঞ্জের ডাগ আউট সামলাচ্ছেন।
রহমতগঞ্জকে ফেডারেশন কাপের ফাইনালে নিতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই দারুণ খুশি জিলানী, ‘আমি খুবই খুশি। কারণ আমার কোচিং ক্যারিয়ার এখানে জড়িত। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছেন।’ এই সাফল্যকে ক্লাব পর্যায়ে নিজের সেরা সাফল্যও মনে করেন জিলানী, ‘অবশ্যেই ক্লাব লেভেলে এটাই আমার সেরা সাফল্য। কারণ বয়স ভিত্তিক জাতীয় দল আলাদা বিষয়। আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া...।’
অথচ এই দলটাকে নিয়ে ফাইনালে আসতে পারবেন, টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জিলানীর সুদূর কল্পনাতেও তা ছিল না। বলছিলেন, ‘রহমতগঞ্জবাসী, ক্লাব কর্তৃপক্ষ বা আমি নিজে কখনো এটা চিন্তা করিনি। আমার প্রস্তুতিটাও বেশি দিনের ছিল না। মাত্র এক মাসের মতো প্রস্তুতি নিতে পেরেছি দলটাকে নিয়ে।’
এরপরও এই সাফল্যের জন্য শিষ্যদেরই পিঠ চাপড়ে দিলেন জিলানী, ‘স্বল্প সময়ের মধ্যে আমি যতটুকু পেরেছি গোছানোর চেষ্টা করেছি দলটাকে। সেই হিসেবে আমি ছেলেদের কৃতিত্ব দেব। আমি যেভাবে বলেছি তারা সেভাবে চেষ্টা করেছে। প্রতিটা বিভাগেই ওরা দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেছে বলেই এই সাফল্য।’
২০১১ সালে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলে সবাইকে চমকে দিয়ে শিরোপা জিতে নিয়েছিল পুরান ঢাকার আরেক দল ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। রহমতগঞ্জ কি এবার ফেডারেশন কাপে তেমন কিছু করতে পারবে? উত্তর দেবে সময়।
