ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) কঠোর বিরোধিতা করে বিএনপি বলেছে, এই পদ্ধতিতে ভোট দিলে তার পেপার ট্রেইল না থাকায় ইভিএম প্রকল্পে সই করেননি জামিলুর রেজা চৌধুরী।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দুই ঘণ্টা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বলেছেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীরবে নিঃশব্দে ভোটচুরির প্রকল্প হলো ইভিএম।
পৃথিবীর দুই শত দেশের মধ্যে মাত্র চারটি দেশে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই চারটি দেশের সরকার এবং নির্বাচন কমিশন কোনোটাই বিতর্কিত নয়। বাংলাদেশের সরকার এবং নির্বাচন কমিশন দুটিই বিতর্কিত। ফলে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ইভিএম অন্তরায়।
২০১৪ সালে ভোটারবিহীন প্রার্থীবিহীন একটা নির্বাচন করে সরকার ক্ষমতা দখল করেছিল দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ২০১৮ সালে ডিসেম্বরে মধ্যরাতে ব্যালট বাক্স ভর্তি করে ফের ক্ষমতায় আসে সরকার। এখন আবার এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে চাচ্ছে। এখন ক্ষমতা দখলের একটি নতুন প্রক্রিয়া দেখতে পাচ্ছি, সেটি হলো ইভিএম।
আমীর খসরু মাহমুদ আরও বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে ভোটচুরির যে প্রক্রিয়া, সেটা একেবারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নীরবে নিঃশব্দে ভোটচুরির একটি প্রকল্প ছাড়া আর কিছুই না। নির্বাচনের ফলাফল কি হবে সেটা নির্ভর করবে ইভিএম এর প্রোগ্রামের ওপর। জনগণ যে ভোট দেবে সে ভোটটা কাকে দেবে তার পেপার ট্রেইল নাই।
পেপার ট্রেইল না থাকার কারণে ইভিএমের টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য জামিলুর রেজা চৌধুরী এই প্রকল্পে সই করেননি দাবি করে এই রাজনীতিবিদ বলেন, ‘ফলে সেখানে ভ্যারিফাই বা পরীক্ষা করার কোন সুযোগ নাই। তারপরও নির্বাচন কমিশন রহস্যজনক কারণে ইভিএমে গেছে। ’
তিনি বলেন, যেভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ব্যালট বাক্স ভর্তি করা হয়েছে, প্রার্থীবিহীন নির্বাচনে জয়লাভ করেছে একইভাবে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এই ভোট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
জনগণ সারা দিন ভোট দিলেও কোন লাভ হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, কারণ ইভিএম এর প্রোগ্রাম যেভাবে সেট করা আছে সেভাবেই ফলাফল আসবে।
নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রার্থীর গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৩০ তারিখ পর্যন্ত দৃশ্যমান কিছু না হলে আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না। পূর্বের কোন মামলায় কোনো গ্রেপ্তার হবে না।
