সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে সাতক্ষীরায় কয়েক কোটি টাকা আমানত সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে আল-কারীম ফাউন্ডেশন নামের একটি ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। গত রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত পাঁচজনকে শহরের নবারুন স্কুলের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা গেছে, ২০০৬ সালে নবারুন স্কুলের সামনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কয়েকজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। প্রথমে প্রতিষ্ঠানটি তেমন কোনো সাড়া না পেলেও সাত উপজেলায় ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাঠকর্মী হিসেবে নিয়োগ দিয়ে গ্রাহককে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী আমানাত সংগ্রহ শুরু করে। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দেখে সাধারণ মানুষ সহজেই বিশ্বাস করে টাকা আমানত করতে শুরু করে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কোনো ব্যাংক হিসাব নেই। প্রতিদিন যে টাকা আদায় হয় তা চেয়ারম্যানের অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
শ্যামনগর উপজেলার দাউদ গাজীর ছেলে আইয়ুব গাজী জানান, তিনি প্রায় আড়াই লাখ টাকা সঞ্চয় করেন। এর বিপরীতে ৫০ হাজার টাকা লোন নেন। বাকি টাকা চাইতে গেলে সদর উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন বেলাল হোসেন বলেন, ‘আপনি ৫ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন; বাকি টাকা পরিশোধ করুন, নইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আল-কারিম ফাউন্ডেশনের জেলা কর্মকর্তা রহমত উল্লাহ জানান, তাদের গ্রাহক সংখ্যা সাড়ে আট হাজার। পাস বই ও মানি রিসিটের মাধ্যমে আমানত সংগ্রহ করা হয়ে থাকে। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘আমি ইসলামী আন্দোলনের সদস্য। যখন শুরু করি, তখন এত আইন-কানুন দেখা হয়নি। সরকার না চাইলে এ বছরের মধ্যে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেব।’
জেলা সমবায় কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই চলতে পারে না। প্রতিষ্ঠানটি তাদের দপ্তরেরও নিবন্ধন নেয়নি।’ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক দেবাশীষ সরদার জানান, এক সপ্তাহ আগে সমাজসেবা থেকে প্রতিষ্ঠানটি একটি নিবন্ধন নিয়েছে। সেই নিবন্ধনের আলোকে কোনো আর্থিক লেনদেন করার কথা নয়। সদর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আয়ুব আলী নামে এক গ্রাহক মামলা করেছেন। রবিবার রাতে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
