আগামী এক দশকের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণ করবেন যে ২০ জন, তাদের তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন ভারতের কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রী ও নির্বাচন কৌশলী প্রশান্ত কিশোর।
ফোর্বসের এই তালিকায় ‘নির্বাচন কৌশলী’ প্রশান্ত সম্পর্কে লেখা হয়েছে— ৪২ বছরের এই ব্যক্তি ২০১১ সাল থেকে নির্বাচন কৌশলী হিসেবে কাজ করছেন। প্রথমে তিনি গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করেছিলেন। পরে ২০১৪ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপির হয়ে কৌশল সাজিয়েছিলেন প্রশান্ত কিশোর। পরে আরও বিভিন্ন দলের হয়ে যে তিনি কাজ করেছেন এবং তার সাফল্যের হারই যে বেশি, সে কথাও ফোর্বস উল্লেখ করেছে। ভারতের নির্বাচনী কৌশল ব্যবস্থাটাকেই বদলে দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর— লিখেছে ফোর্বস। ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা ক্রমশ আরও বড় হয়ে উঠবে— এমন ভবিষ্যদ্বাণীও করা হয়েছে সেখানে।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বড় ধাক্কা খাওয়ার পরেই প্রশান্ত কিশোরকে পরামর্শদাতা হিসেবে ডেকে এনেছে তৃণমূল। তার পরে ইতিবাচক ফলও মিলেছে। লোকসভা নির্বাচনের ফল বেরোনোর পরে যেভাবে হতোদ্যম হয়ে পড়েছিলেন তৃণমূল কর্মীরা, সেই দশা প্রশান্ত কিশোর কাটিয়ে দিয়েছেন অনেকটাই। ‘দিদিকে বলো’-সহ নানা কর্মসূচি ছকে দিয়ে তৃণমূলের নানা স্তরের নেতা-কর্মীদের একনাগাড়ে রাস্তায় থাকতে বাধ্য করেছে তার সংস্থা।
এ ছাড়া ফোর্বসের তালিকায় রয়েছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তালিকায় তার নাম প্রশান্ত কিশোরের অনেক আগেই। মহুয়া কবে রাজনীতিতে এলেন, কত দিন কংগ্রেসে ছিলেন, তার পরে কবে থেকে তৃণমূলে রয়েছেন, লোকসভায় নির্বাচিত হওয়ার পরে সংসদে দেওয়া প্রথম ভাষণেই কীভাবে জ্বালাময়ী আক্রমণ শানিয়েছিলেন মোদী সরকারের বিরুদ্ধে— সবই উল্লেখ করেছে ফোর্বস। আগামী ১০ বছরের গতিপ্রকৃতি যাঁরা নির্ধারণ করবেন, তাদের মধ্যে মহুয়া মৈত্র অন্যতম— মনে করছে ফোর্বস।
প্রশান্ত কিশোর, মহুয়া মৈত্ররা যে তালিকাটায় জায়গা পেলেন, সেটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বোঝা যাবে ওই তালিকার অন্তর্ভুক্ত আর কয়েক জনের নাম জানলেই। তালিকায় রয়েছে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট, সৌদি আরবের যুবরাজ, নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর নাম।
