অগ্নিঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ এলাকার লক্ষাধিক পোশাকশ্রমিক। ব্যাঙের ছাতার মতো যত্রতত্র গড়ে তোলা হয়েছে অধিকাংশ কারখানা। একটির সঙ্গে আরেকটি লাগানো। সিঁড়ি এতটাই সরু; একসঙ্গে তিনজন চলা দুষ্কর। নেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার ও অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা। এ ছাড়া বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মারগুলো ভবনের সঙ্গে লাগানো। যেকোনো সময় শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সর্বোপরি অধিকাংশ ভবনই করা হয়েছে রাজউকের অনুমোদন অথবা প্ল্যান পাস ছাড়া। ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মালিকরা নির্দেশনাই মানছেন না।
জানা যায়, কালীগঞ্জে ছোট-বড় প্রায় চার হাজার কারখানা ও ছয় হাজারেরও বেশি শোরুম রয়েছে। টাকা কামানোর নেশায় ভবন মালিকরা গড়ে তুলেছেন একের পর এক ভবন আর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। মালিকরা কারখানা আইন না মেনেই গড়ে তুলছেন বিশাল কারখানা। অধিকাংশ বিল্ডিংয়েরই রাজউকের কোনো অনুমোদন অথবা প্ল্যান পাস নেই। কেরানীগঞ্জ পোশাকপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, কোনো ধরনেন ফাঁকা জায়গা না রেখেই একটির সঙ্গে আরেকটি ভবন তৈরি করা হয়েছে। অনেক ভবনের সিঁড়ি সরু। একসঙ্গে তিন-চারজন চলা দুষ্কর। এ ছাড়া চলাচলের রাস্তাও সরু। ফায়ার সার্ভিসের যাতায়াতের ব্যবস্থাও নেই। আগানগরের বেশ কয়েকটি মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, নেই কোনো অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা, নেই কাজের পরিবেশ। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন হাজার হাজার শ্রমিক। এ ছাড়া বিদ্যুতের ট্রান্সফর্মারগুলো বিল্ডিংয়ের সঙ্গে লাগানো। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
আগানগরের নামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবুল বলেন, ‘১০-১৫ বছর আগেও এখানে এত জনবহুল মার্কেট ছিল না। এখানে শিল্পায়ন দ্রুত হয়েছে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা শুধু তাদের নিজেরটাই বুঝেছেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বা সুযোগ-সুবিধার কথা তারা কখনোই চিন্তা করেন না।’ জেলা পরিষদ মার্কেট এলাকায় দোকানি জামাল বলেন, ‘আমাদের দোকানিদের সচেতনতার অভাব রয়েছে। এ ছাড়া মালিক সমিতির জোরালো কোনো ভূমিকা নেই। তারা শুধু প্রতি মাসে চাঁদাই নেন কিন্তু তেমন কোনো কাজই করেন না।’ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক আতিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একাধিকবার কেরানীগঞ্জ পোশাকপল্লী পরিদর্শন করা হয়েছে। বহুবার চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো নির্দেশনা মানছেন না।’
আগানগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর শাহ খুশি বলেন, ‘৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এখানকার ভবন মালিকরা বেশির ভাগই ওয়ারী, গুলশান ও বনানী থাকেন। তাই অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা নেই। কোনোভাবে যদি একটা ভবনে আগুন লেগেই যায়, কেউ বের হতে পারবে না।’
কেরানীগঞ্জ পোশাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুসলিম ঢালী বলেন, ‘কমিটির বয়স মাত্র ২ মাস। একবারে সব পরিবর্তন সম্ভব নয়। আমরা কাজ করছি। এরই মধ্যে পোশাকপল্লীতে মাইকিং করেছি। সব ব্যবসায়ী ও ভবনের মালিকদের চিঠি দিয়েছি। অনেকে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা করেছে; অন্যরাও করে ফেলবেন।’
