৬ হাজার টাকার জন্য কিশোরীকে ধর্ষণ: যেভাবে ধরা পড়ল বাবা ও মহাজন

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৩৮ পিএম

ধারের ছয় হাজার টাকা না পেয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার আসামি কামরাঙ্গীর চরের সেই ‘মহাজন’ মুরগী দোকাদার আবুল হোসেন (৩৬) ওরফে মুরগী আবুলকে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার করেছে লালবাগ থানা পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর থানা এলাকায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন কামরাঙ্গীর চর থানার ওসি এবিএম মশিহুর রহমান।

তিনি জানান, আবুলের বাড়ি কামরাঙ্গীর চর হলেও ওই ঘটনায় কিশোরীর বাবার ফোন পেয়ে শ্রীনগরে আত্মগোপন করে। প্রযুক্তিগত তদন্তের মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় কিশোরীর বাবাকে মঙ্গলবার রাতেই আটক করে বুধবার মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।

ওসি জানান, বাবাকে ৬ হাজার টাকা ধার দিয়ে মুরগী দোকানি আবুল তার কর্মচারীর মেয়েকে এক বছর ধরে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাকে রিমান্ডে এনে আরো জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

পুলিশের লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা মামলার তদন্তের পাশাপাশি আসামি গ্রেপ্তারকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিই। থানা পুলিশের সদস্যদের আন্তরিক চেষ্টায় অল্প সময়ের মধ্যেই আসামি গ্রেপ্তারে সফল হই।

জানা গেছে, রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাবাকে ছয় হাজার টাকা ধার দিয়ে এক বছর ধরে তার ১৩ বছর বয়সি কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণ করেছে আবুল হোসেন নামের ওই মুরগি দোকানদার। কিশোরীর বাবা ওই দোকানের কর্মচারী ছিল।

পুলিশের দাবি, টাকা শোধ দিতে না পেরে ধর্ষণকারীর হাতে মেয়েকে তুলে দিয়েছে কিশোরীর বাবা। মঙ্গলবার জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন পেয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসিতে) ভর্তি করা হয়। ধর্ষণের শিকার কিশোরীর মা বিদেশে থাকেন। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর থেকে সে অসুস্থ দাদির কাছে থাকত।

ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি অবগত হওয়ার পর ওই কিশোরীর বাবা নিজেই ফোন করে ধর্ষককে পালিয়ে যেতে বলেছে। আমরা এ সংক্রান্ত মোবাইল অডিও রেকর্ড পেয়েছি। যাতে তার বাবা পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিল আবুল হোসেনকে। তিনি বলছিলেন, ‘পালাও, পালাও।’ এরপরই আমরা নিশ্চিত হই যে বাবার সম্পৃক্ততা রয়েছে।

লালবাগ থানার এসআই মোর্শেদ আলী জানান, ৯৯৯ এ একটি ফোন পেয়ে তারা মঙ্গলবার কিশোরীকে উদ্ধার করে। তাকে এক বছর ধরে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার সে তার বাড়িওয়ালাকে জানিয়েছে। ওই বাড়িওয়ালাই পুলিশকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, কিশোরীর বাবা মুরগি দোকানের কর্মচারী। কামরাঙ্গীরচরের ব্যাটারিঘাট এলাকায় মুরগি দোকানদার আবুল হোসেনের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা ধার নেয়। টাকা শোধ করতে না পারায় মেয়েকে ধর্ষণের সুযোগ করে দেয় বাবা। একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানায় ওই কিশোরী।

ঢামেক হাসপাতালের ওসিসির তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিলকিস বেগম বলেন, বুধবার কিশোরীর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তাকে কাউন্সেলিং করা হয়েছে। সে এখনো মানসিক ট্রমার মধ্যে আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত