হবিগঞ্জে জেলা কৃষক লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবীর রেজার দখলে থাকা ১৪ একর খাস জমি প্রশাসনের আয়ত্তে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার নির্বাহী হাকিম মাসুদ রানা উপস্থিত থেকে দখল করা ভূমিসহ ৫টি দাগের মোট ১৮ দশমিক ৪৩ একর জায়গা লাল নিশান দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
সীমানা নির্ধারণের সময় উপস্থিত ছিলেন বানিয়াচং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মতিউর রহমান খান, সার্ভেয়ার আমিনুল ইসলামসহ ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা। ৩ জানুয়ারি দেশ রূপান্তর-এ ‘কৃষক লীগ নেতার দখলে থাকা ১৪ একর জমি উদ্ধার’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।
বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর মৌজার এসএজেএল নং-২০০, আরএস জেএল নং-২০৫, খতিয়ান নং-১-এর দাগ নং ৯১, ৯৩ ও ১৩৩-এর ১৪ একর ৪৫ শতক ভূমি ১৯৮৮ সালে ভূমিহীনদের ইজারা দেয় উপজেলা ভূমি অফিস। কিন্তু ওই ভূমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করে ফেলে রাখে ভূমিহীনরা। ২০১০ সালে এলাকাবাসী ও ভূমিহীনদের মধ্যে এ ভূমি নিয়ে সংঘর্ষে শফিক নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ মামলায় আসামি করা হয় বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কৃষক লীগ নেতা হুমায়ুন কবীর রেজাকেও। এই হত্যা মামলা নিষ্পত্তির পর পুরো ভূমির দখল নেন হুমায়ুন।
গত ২৫ নভেম্বর ইউনিয়নের কচুয়ারআব্দা গ্রামের বাসিন্দাদের পক্ষে জ্যোতির্ময় দাস ভূমিমন্ত্রী বরাবর সরকারি ভূমি দখল করে রাখায় হুমায়ুনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্ত শেষে গতকাল বুধবার সীমানা নির্ধারণে লাল নিশান টাঙিয়ে দেয় উপজেলা প্রশাসন।
বানিয়াচংয়ের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মতিউর রহমান খান জানান, এই ভূমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প বা গুচ্ছগ্রাম তৈরি করার জন্য খুব শিগগির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
