কুমিল্লার তিতাসে গোমতী নদীর দুই তীরে অবৈধভাবে মাটি কাটায় হুমকিতে পড়েছে নদী তীর সংলগ্ন বেড়িবাঁধ।
যে কোনো সময় বেড়িবাধঁটি ধসে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় বেড়িবাঁধের আশপাশের বাসিন্দারা চরম দুশ্চিন্তায় আছেন। প্রভাবশালী চেয়ারম্যান এ মাটি কাটায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রায়পুর থেকে আসমানিয়া-জাহাপুর-মুরাদনগর বেড়িবাঁধটি ১৯৮৮ সালে গোমতী নদীর তীর ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে।
বর্তমানে এটি পাকা সড়কে রূপান্তরিত হওয়ায় প্রতিদিন তিতাস ও মুরাদনগর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ আসা যাওয়া করে। একই সঙ্গে নদীপাড়ের বেড়িবাধঁটি এ অঞ্চলের মানুষদের ঝড় ঝঞ্ঝাট থেকেও রক্ষা করে। কিন্তু সেই নদী পাড় থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্রিক্স ম্যানুফ্যাকচার (এনবিএম) ব্রিকফিল্ডে।
তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের জগৎপুর এলাকার ওই ব্রিফিল্ডের মালিক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা। তার (চেয়ারম্যানের) ভয়ে এখানে কেউ মুখ খোলে কথা বলে না।
ন্যাশনাল ব্রিক্স ম্যানুফ্যাকচারের লোকজন ভেকু মেশিন দিয়ে গোমতী নদী তীরের মাটি কেটে ট্রাক্টর দিয়ে ব্রিকফিল্ডে নিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিকদের ছবি তুলতে দেখে কয়েকজন লোক এগিয়ে এসে বলে, ছবি তুলে লাভ নেই, আপনারা চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন জানান, নদী ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন এলাকায় তীর খনন করে মাটি কেটে ইটখল্লায় নিয়ে যাচ্ছেন ভিটিকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা।
গত কয়েক দিন ধরে এভাবে মাটি কাটাচ্ছেন তিনি। ক্ষমতাসীন দলের চেয়ারম্যান হওয়ায় কেউ বাধা দেওয়ার সাহস পাচ্ছে না। এতে আমাদের এই বেড়িবাঁধটি যে কোনো সময় ভেঙে যেতে পারে। প্রশাসনের লোকজনকে জানালে তারা এসে দেখে চলে যায়।
ইটভাটার মালিক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, আমি ব্যক্তি মালিকানা জমি থেকে মাটি কাটছি। প্রশাসনের লোকজন এসে দেখে গেছে। কারা দেখে গেছে প্রশ্ন করলে বলেন, ভূমি অফিসের লোকজন এসে কাগজপত্র দেখেছে।
ভূমি অফিসের তহসিলদার মো. ফারুক হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব বলছে ব্যক্তিমালিকানা জমি থেকে মাটি কাটছে এবং একটি কাগজও (পরচা) দিয়েছে। এখন কোন জমি থেকে কাটছে আর কোন জমির পরচা দিয়েছে সার্ভেয়ারের মাপ ছাড়া বলতে পারবো না। তার পরও মাটিকাটার খবর পেয়ে বন্ধ করার জন্য লোক পাঠিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ রাশেদা আক্তার বলেন, স্থানীয় সাংবাদিকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারি। চেয়ারম্যানকে বলেছি মাটি কাটা বন্ধ করতে, না করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
