চীনের উহান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন ৩৬১ বাংলাদেশি। এর মধ্যে ১৮ শিশুসহ ১৯টি পরিবার রয়েছে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান। রাত দুইটার দিকে তারা দেশে ফিরছেন বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চীনের উহান থেকে শিক্ষার্থীসহ ৩ শ’ ৬১ জন বাংলাদেশে আসার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেন। গতরাতে চীনা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা অনুযায়ীই বিদেশে থাকা আমাদের ছেলে-মেয়েদের আজ দেশে ফিরিয়ে আনার সকল বন্দোবস্ত করা হয়েছে।
চীন থেকে আগত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সরকারের সতর্কতার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভুলে গেলে চলবে না, এই ছেলেমেয়েরা আমাদেরই সন্তান। তাদেরকে আমরা মৃত্যুমুখে ফেলে রাখতে পারি না। তবে দেশে এনে তাদের কারণে যেন অন্য কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা শতভাগ সজাগ রয়েছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে আটকে পড়াদের মধ্য থেকে কেবল উহান রাজ্যে বসবাসরতদেরকেই আজ দেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। দেশে এনে তাদেরকে আশকোনা হজক্যাম্পে আইসোলেটেড পিরিয়ড ১৪ দিন রাখা হবে। অন্য প্রদেশে বসবাসকারীদের তুলনামূলক কম ঝুঁকি থাকায় এই মুহূর্তে তাদেরকে আনার ব্যাপারে সরকার ভাবছে না।
উহান থেকে ফেরত সবাইকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হেফাজতে সকল প্রোটেকশন দেয়ার প্রস্তুতি ও ৩ বেলা খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে রেখেছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।
তিনি জানান, চীন থেকে আসা বাংলাদেশিদের পর্যবেক্ষণের জন্য আশকোনা হজ ক্যাম্পে রাখা হবে। এরই মধ্যে হজ ক্যাম্পে আইসোলেশন ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।
