চবিতে ডিন নিবার্চন: তিন দলের ২১ প্রার্থী, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯:০৭ এএম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথমবারের মতো তিন দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডিন নির্বাচন।

নির্বাচনে আওয়ামী ও বামপন্থী শিক্ষক সমর্থিত ‘হলুদ দল’, বিএনপি ও জামায়াত শিক্ষক সমর্থিত ‘সাদা দল’ এবং বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একাংশ ‘জাতীয়তাবাদী ফোরাম’ অংশ নিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি অনুষদের ডিন নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণাও করেছে দলগুলো।

মঙ্গলবার সাতজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় নির্বাচনে ২১ প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা কে এম নুর আহমদ।

দীর্ঘ তিন বছর পর আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। তবে এ নির্বাচনে অগ্রিম ভোট অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি।

১৬ ফেব্রুয়ারি যেসব শিক্ষক ছুটিতে থাকবেন শুধু মাত্র তারাই অগ্রিম ভোট দিতে পারবেন।

এদিকে এবারের নির্বাচনে চারটি অনুষদে হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে চলছে নানা সমালোচনা। দলের এমন বিভাজনের জন্য বর্তমান প্রশাসন ও বিগত প্রশাসনপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে ‘অন্তঃকোন্দল’ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে আওয়ামী-বামপন্থী শিক্ষক সমর্থিত হলুদ দলের প্রার্থী হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমদ সালাউদ্দিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ফলে গত দুই দশকে প্রথমবারের মতো হলুদ দলের প্রার্থীবিহীন নির্বাচন হবে অনুষদটিতে।

অন্যদিকে, ব্যবসায় অনুষদ ছাড়া ছয়টি অনুষদে হলুদ দলের প্রার্থী নির্বাচন করলেও নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত শিক্ষক সমর্থিত ‘সাদা দল’ থেকে মাত্র তিনটি অনুষদে এবং ‘জাতীয়তাবাদী ফোরাম’ থেকে পাঁচটি অনুষদে প্রার্থী নির্বাচন করছেন। আর কোনো প্রার্থী না থাকায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদে হলুদ দল সমর্থিত প্রার্থী রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী হলেন যারা

কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে হলুদ দল থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী হয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহীবুল আজিজ এবং জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু নছর মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ।

বিজ্ঞান অনুষদের প্রার্থী হয়েছেন পাঁচজন। এর মধ্যে হলুদ দল থেকে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক বেনু কুমার দে, সাদা দল থেকে একই বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. শামছু উদ্দিন আহমদ, জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ইনস্টিটিউটের ড. মো. আল আমিন।

এছাড়া হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান ডিন বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সফিউল আলম ও পদার্থবিদ্যা বিভাগের ড. মো. নাসিম হাসান।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ থেকে মনোনীত হয়েছেন চারজন প্রার্থী। সাদা দল থেকে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শওকতুল মেহের, জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে ফাইন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক এসএম নসরুল কদির, হলুদ দলের কোনো প্রার্থী না থাকলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক এস.এম. সালামত উল্যা ভূঁইয়া ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ড. মো. আব্দুল্লাহ মামুন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে তিনজন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিলেও গতকাল দুইজন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় হলুদ দলের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের ড. মোস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

আইন অনুষদে হলুদ দল থেকে আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নির্মল কুমার সাহা এবং বর্তমান ডিন অধ্যাপক এবি এম আবু নোমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

জীববিজ্ঞান অনুষদে হলুদ দল থেকে ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হোসাইন, সাদা দল থেকে প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান, জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন চূড়ান্ত প্রার্থী হয়েছেন।

এছাড়া হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন অধ্যাপক ড. অলক পাল।

ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে হলুদ দল থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ও হলুদ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাশেদ মোস্তফা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

মেরিন সায়েন্স অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদে হলুদ দল থেকে ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রাশেদ-উন-নবী এবং জাতীয়তাবাদী ফোরাম থেকে মেরিন সায়েন্স ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. এম. মারুফ হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কে এম নুর আহমদ বলেন, সাতজন প্রার্থী তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

তাই আটটি অনুষদের ডিন নির্বাচনে ২১ জন প্রার্থী চূড়ান্ত তালিকা আমার পেয়েছি। এর মধ্যে কোনো প্রার্থী না থাকায় সমাজবিজ্ঞান অনুষদে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ তিন বছর আগে ২০১৭ সালের ডিন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এতে কলা ও মানববিদ্যা অনুষদে অধ্যাপক ড. সেকান্দর চৌধুরী, বিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক ড. সফিউল আলম, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে অধ্যাপক ড. আওরঙ্গজেব, সমাজ বিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন, জীব বিজ্ঞান অনুষদে অধ্যাপক ড. মাহাবুবুর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে অধ্যাপক ড. শংকর লাল সাহা নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে জানা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত