যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় চিড়িয়াখানার নামে মূলত বন্যপ্রাণী নির্যাতন কেন্দ্র করা হয়েছে বলে সেখানে ঘুরতে যাওয়া পর্যটকরা অভিযোগ করেছেন। চিড়িয়াখানাটিতে অপরিসর জায়গায় ছোট ছোট খাঁচায় বন্দী করে রাখা হয়েছে বন্যপ্রাণীদের। নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা, এমনকি প্রাণীগুলোকে ঠিকমতো খাবারও দেয়া হয় না বলে অভিযোগ করেছেন কেউ কেউ।
উপজেলার ঝাঁপার বাঁওড়ে তৈরি হওয়া বাংলাদেশের প্রথম ভাসমান ব্রিজ দেখতে ওই এলাকায় পর্যটক সমাগম বৃদ্ধি পায়। এরই প্রেক্ষিতে পর্যটক আকর্ষণের জন্য সেখানে তৈরি হয় একটি চিড়িয়াখানা। চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে অল্প পরিসরের জায়গায় কিছু বন্যপ্রাণী খাঁচায় বন্দী করে রেখে দিয়ে নামমাত্র চলছে এই চিড়িয়াখানা।
আফতাব নামে প্রাণিবিদ্যার এক শিক্ষার্থী সেখানে ঘুরতে গিয়ে বন্যপ্রাণী লালনপালনের নানান অসংগতি দেখতে পেয়েছেন। তিনি ফেসবুক পোস্টে জানান, ফটকের সঙ্গে লাগোয়া বড় স্পিকারে চলছে উচ্চ শব্দের গান। এই উচ্চ শব্দ বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবন যাপনে অন্তরায়। ভেতরে প্রাণী গুলিতে রাখা হয়েছে গ্রামের মুরগির খাঁচার মতো স্বল্প পরিসরের
লোহার খাঁচায়। যেখানে দাঁড়ালে পা বের হয়ে পড়ে মাটিতে, সোজা হয়ে দাঁড়ালে এক পা বাড়ানোর জায়গা নেই- এমন খাঁচায় রাখা হয়েছে পাতি শিয়াল ও মেছোবাঘ। সাপ রাখার বাক্সগুলোর কাচ ভাঙা, টেপ দিয়ে কোন রকম আঁটকে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঘুরে দেখে মনে হলো প্রাণীগুলোকে ঠিকমতো খাবারও দেয়া হয় না। সম্ভবত নেই কোন কিউরেটর, ভেটেরিনারিয়ান ।
চিড়িয়াখানার তত্ত্বাবধায়ক আফতাবকে জানান, এটার অনুমতি আছে। আরও প্রাণী আনবে এবং খাঁচা করা হবে।
