ইদলিব সংঘাতকে কেন্দ্র করে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সিরিয়া ও তুরস্কের মধ্যে।
বিদ্রোহীদের হাত থেকে ইদলিব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে সিরীয় সৈন্যদের হামলায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১২ জন তুর্কি সৈন্য। এতে ভয়ানক ক্ষেপে গেছে তুরস্ক।
বিবিসি জানায়, আগের দিনের মতো বুধবারও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সিরিয়াকে হুমকি দিয়েছেন।
তুরস্কের পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন একে পার্টির এক সভায় ভাষণে এরদোয়ান বলেন, ‘আর একটি তুর্কি সৈন্যের গায়ে আঁচড় লাগলে সিরিয়ার রক্ষা নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমি ঘোষণা করছি যে এখন থেকে একজন তুর্কি সৈন্যও যদি আহত হয়, তাহলে সিরিয়ার যে কোনো জায়গায় তাদের সৈন্যদের ওপর আঘাত করা হবে। যে কোনো পন্থায়, তা আকাশ পথে হোক আর স্থলপথে, কোনোরকম দ্বিধা ছাড়াই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
শুধু সিরিয়াকেই হুঁশিয়ার করে ক্ষান্ত হননি এরদোয়ান। এদিন প্রথমবারের মতো সরাসরি তিনি রাশিয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, রাশিয়া ইদলিবে ‘গণহত্যা’ চালাচ্ছে।
সিরিয়ায় রাশিয়ার একটি বিমান ঘাঁটি রয়েছে এবং ইদলিবের আকাশের নিয়ন্ত্রণ রাশিয়ার হাতেই। বিদ্রোহীদের অবস্থানে বিমান হামলাগুলো করছে মূলত রুশ যুদ্ধবিমান।
সুতরাং সিরিয়ার যে কোনো জায়গায় প্রয়োজনে আকাশপথে সিরিয়ার সৈন্যদের টার্গেট করার হুমকি দিয়ে এরদোয়ান পরোক্ষভাবে সিরিয়ার মিত্র রাশিয়াকেও রক্তচক্ষু দেখালেন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ইদলিব নিয়ন্ত্রণ করছে যে সব সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠী তার সিংহভাগই তুরস্ক সমর্থিত। অঞ্চলটিকে ‘ডি-এস্কেলেশন জোন’ ঘোষণা করে গত ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে চুক্তি সই করে রাশিয়া ও তুরস্ক। এই চুক্তি অনুযায়ী ইদলিবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া নিষিদ্ধ। চুক্তি কার্যকরের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে সেখানে বেশ কিছু পোস্ট বসায় তুরস্ক।
কিন্তু সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে গত ১২ জানুয়ারি থেকে ব্যাপক হামলায় চালিয়ে ইদলিবের প্রায় অর্ধেক দখল করে নেয় রাশিয়া ও সিরীয় সরকারি বাহিনী। এতে নিহত হয় প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন। বাস্তুচ্যুত হয় কয়েক লাখ সিরীয়।
এমনিতে লাখ লাখ সিরীয় শরণার্থীর ভারে ন্যুব্জ তুরস্ক। দেশটির জনগণের মাঝে তাদের নিয়ে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। এতে জনপ্রিয়তায় টান পড়েছে এরদোয়ানের একে পার্টির। ফলে নতুন করে কয়েক লাখ সিরীয় শরণার্থী ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যায় তুরস্ক।
আলজাজিরা জানায়, তুরস্ক চুক্তি অনুযায়ী ইদলিবের নির্দিষ্ট সীমানা অতিক্রম না করতে রুশ ও সিরীয় সরকারি বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু এই আহ্বান উপেক্ষা করে অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করে রুশ ও সিরীয় বাহিনী। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে ‘আস্তানা শান্তি প্রক্রিয়া’।
