বনভোজনের চাঁদা না দেওয়ায় ১৮ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:২১ পিএম

এখনো দেড় মাস হয়নি কয়েক শিক্ষার্থী প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে ভর্তি হয়েছিল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু দরিদ্রতার নির্মম কশাঘাতে চারশ টাকা জোগাড় করতে না পারায় তাদেরসহ ১৮ শিক্ষার্থীকে ছিটকে পড়তে হলো জ্ঞানের আলোর পথ থেকে। বনভোজনের চাঁদা দিতে না পারার ‘অপরাধে’ পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গতকাল বুধবার দরিদ্র ওই শিক্ষার্থীদের হাতে ধরিয়ে দেন ‘বিদ্যালয় পরিত্যাগের সনদপত্র।’

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির স্বল্প আয়ের পরিবারের এসব শিশু শিক্ষার্থী সাদাকালো অক্ষরে লেখা এ ছাড়পত্রের মর্মার্থ না বুঝলেও শিক্ষিত প্রতিবেশীরা ছাড়পত্রের ব্যাখ্যায় হতবাক। অবাক এলাকার সচেতন মানুষ।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল দুপুরে পার্বতীপুরের রামপুর ইউনিয়নের জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে। পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণা অনুযায়ী গত ১০ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পায়রাবন্দে বনভোজনের আয়োজন করে জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়। এজন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ৪শ টাকা করে চাঁদা ধরা হয়। বিদ্যালয়ের ২৫০ শিক্ষার্থীর মধ্যে দরিদ্র বিত্তহীন পরিবারের ১৮ শিক্ষার্থী চাঁদার টাকা জোগাড় করতে না পারায় তারা বনভোজনে অংশ নিতে পারেনি। বনভোজন উপলক্ষে বিদ্যালয় দুদিন ছুটিও ঘোষণা করা হয়। বনভোজনের ছুটি শেষে গতকাল ওই ১৮ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম তাদের প্রত্যেকের হাতে ছাড়পত্রের নোটিস তুলে দেন। তাদের মধ্যে ষষ্ঠ শ্রেণির ৫, সপ্তম শ্রেণির ২, অষ্টম শ্রেণির ৭ ও নবম শ্রেণির ৪ শিক্ষার্থী রয়েছে।

বহিষ্কৃত ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীর অভিভাবক মতিউর রহমান ও একই শ্রেণির অপর শিক্ষার্থীর অভিভাবক রেজিনা বেগম জানান, দরিদ্রতার কারণে তাদের সন্তানরা চাঁদা দিতে না পারায় বনভোজনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এখন স্কুল থেকেও বের করে দিল। তবে জমিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা স্থানীয় বখাটেদের নিয়ে তিনটি মাইক্রোবাসে করে আমাদের সারাদিন অনুসরণ ও বনভোজনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করে। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছাড়া বনভোজনে অংশ নেওয়া বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সব সদস্যের পরামর্শে ১৮ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ঘটনার বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচার চেয়ে আবেদন করেছে। এর একটি অনুলিপি পেয়েছি। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই নিজস্ব প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত