ক্যামেরুনের অ্যাংলোফোন অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় ১৪ শিশুসহ কমপক্ষে ২২ গ্রামবাসী নিহত হয়েছে। দেশটির একটি বিরোধী দল সেনাবাহিনীকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্যে দায়ী করেছে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় টুম্ব গ্রামে শুক্রবার সশস্ত্র ব্যক্তিরা এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটিয়েছে রবিবার জানিয়েছে জাতিসংঘ।
স্থানীয় মানবিক সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ)-এর এক কর্মকর্তা জেমস নুনান জানান, এক অন্তসত্ত্বা নারী ও ১৪ শিশুসহ কমপক্ষে ২২ জন বেসামরিক নাগরিক এতে প্রাণ হারিয়েছে। নিহত নয় শিশুর বয়স ৫ বছরেরও কম।
ওসিএইচএ’র উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রধান আরও জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে ১১টি মেয়ে, যারা পশ্চিম আফ্রিকার অধিবাসী।
দেশটির ইংরেজী ভাষাভাষি সংখ্যালঘু বড় জনগোষ্ঠী গত তিন বছর যাবৎ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুক্রবার এই সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার জন্য বিচ্ছিন্নতাবাদী ও নিরাপত্তাবাহিনী একে অপরের প্রতি দোষারোপ করছে।
‘দি মুভমেন্ট ফর দ্য রিবার্থ অব ক্যামেরুন’-এর প্রধান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি একটি স্বৈরশাসন এবং নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বাহিনী মূলত এ ধরনের অপরাধের জন্য দায়ী।’
বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান আইনজীবী আগবর মবালা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে ‘রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীকে’ এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন।
তবে এ ঘটনার জন্যে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এক সেনা কর্মকর্তা।
প্রায় তিন বছর ধরে ইংরেজি ভাষাভাষি অ্যাংলোফোন জনগোষ্ঠী ফরাসি ভাষাভাষি ক্যামেরুন থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত তিন হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে। প্রায় ৭ লাখ মানুষ ঘরছাড়া হয়েছে।
