রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক

সীমান্তহত্যা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি

আপডেট : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:০০ এএম

রাজশাহী সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে। বিএসএফের আহ্বানে গতকাল বুধবার সকালে সোনাইকান্দি বিওপির পাশে পদ্মার চরে এ বৈঠক হয়। এতে বিএসএফ সীমান্তহত্যা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিএসএফের বহরমপুর সেক্টরের ডিআইজি কুনাল মজুমদারের নেতৃত্বে ৩৫ ব্যাটালিয়নের শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠকে হাজির হন। আর বিজিবির পক্ষে নেতৃত্বে ছিলেন রাজশাহী সেক্টরের কমান্ডার কর্নেল তুহিন মাসুদ। এতে রাজশাহী অঞ্চলে বিএসএফের গুলিতে নিহতের ঘটনাগুলোর প্রতিবাদ জানানো হয়। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, গেল এক মাসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ সীমান্তে অন্তত নয়জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে, যা অনাকাক্সিক্ষত। কেউ ভুল করে ভারতীয় সীমানায় অনুপ্রবেশ করলে রেওয়াজ অনুযায়ী পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানানো হয়। বৈঠকে গত ৩১ জানুয়ারি পবা উপজেলার সোনাইকান্দি বিওপি এলাকার পদ্মা থেকে পাঁচ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বিএসএফ কমান্ডারকে বিজিবি জানায়, বাংলাদেশের ভেতরে পদ্মা নদীতে স্পিডবোট করে তেড়ে এসে তাদের ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার ফুটেজও দেখানো হয়েছে বিএসএফকে। বিজিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, এ ঘটনার প্রথম দফা পতাকা বৈঠকে বসার প্রতিশ্রুতি দিলেও বিএসএফ হাজির হয়নি। পরে দ্বিতীয় দফায় পতাকা বৈঠক হলেও বাংলাদেশি পাঁচ জেলেকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং উল্টো ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশের অভিযোগ এনে মুর্শিদাবাদ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

জবাবে বিএসএফ সীমান্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে, তবে পাল্টা অভিযোগে বিশেষ করে গরু চোরাকারবারিরা কীভাবে বিএসএফের বাধা উপেক্ষা করে ভারতে ঢুকে পড়ে সেটি বলা হয়। তাদের অভিযোগ, অনেক সময় চোরাকারবারিরা হামলাও করে, তখন বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়। তবে এ বৈঠকের পর সীমান্তে সহাবস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিএসএফ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত