গাজীপুর নগরী

স্কুলের পাশে প্লাস্টিক কারখানা ঝাঁজাল গন্ধে ব্যাহত পাঠদান

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৪:৩৪ এএম

গাজীপুরে স্কুলঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি কারখানার প্লাস্টিক গলানোর গন্ধে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নগরীর বোর্ডবাজারের গাছা উচ্চ বিদ্যালয় নামে ওই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্লাস্টিক দানা গলিয়ে প্যাকেট তৈরির সময় উৎকট ও ঝাঁজাল গন্ধে তাদের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম বিঘিœত হচ্ছে। তবে লামিয়া গার্মেন্টস এক্সেসরিস নামে ওই কারখানার দাবি, সবকিছুতেই অনুমতি রয়েছে তাদের।

বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. শরীফের অভিযোগ, ‘কারখানাটিতে প্লাস্টিক প্যাকেট তৈরির সময় অসহনীয় দুর্গন্ধ বের হয়। তখন আমাদের ক্লাস বসে থাকা সমস্যা হয়। দরজা-জানালা বন্ধ করে দমবন্ধ অবস্থায় ক্লাস করতে হয়।’

বিদ্যালয়ের বেবিনেট সদস্য নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানায়, প্লাস্টিকের দানা গলিয়ে প্যাক তৈরির সময় উৎকট ও ঝাঁজাল গন্ধে তাদের শিক্ষার্থীদের শ্বাসকষ্ট, বমি, মাথা ঘোরানো, অজ্ঞান হওয়াসহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, ‘কারখানাটি চালুর আগে প্যাকেট তৈরির বিষয়টি গোপন করে গার্মেন্টস পণ্য নির্মাণ করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে ২০১৬ সালে আমার কাছ থেকে একটি নো-অবজেকশন সনদ নেওয়া হলেও পরের বছর ২০১৭ সালে কারখানাটি আমাদের স্কুলের পাশে স্থানান্তর করা হয়। আমার সঙ্গে ব্ল্যাকমেইল করে সেখানে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। প্লাস্টিক গলানোর ওই তীব্র গন্ধ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অনেকেই সহ্য করতে পারে না। এতে অনেকেরই বমি হয়। আবার অনেকে মাথা ঘুরে পড়েও যায়। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এ ঘটনায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।’

কারখানাটির মালিক মো. শহিদুল ইসলাম সিদ্দিক বলেন, ‘পরিবেশ ছাড়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সরকারি সব প্রক্রিয়া মেনেই ২০১৪ সালে কারখানা চালু করি। কারখানাটি আগে হায়দরাবাদ এলাকায় ছিল। ২০১৭ সালে সেখান থেকে গাছা এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এখানে পলিপ্যাক ও গামটেপসহ গার্মেন্টস এক্সেসরিস তৈরি করা হয়। এ ঘটনায় ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো সমস্যা হচ্ছে বলে মনে করি না। কেউ যদি এ বিষয়ে অভিযোগ করেই থাকে তা সঠিক নয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত