কুয়াশা ধরে খাবার পানি

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:৫৪ পিএম

পেরুর কুসকো অঞ্চলের বাসিন্দা আবেল ক্রুজ। শৈশবে তাকে প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা পথ হেঁটে নিকটবর্তী পানির উৎসের কাছে যেতে হতো পানির জন্য। বর্ষাকালে ক্রুজ গাছের পাতায় বৃষ্টির ফোঁটা জমতে থাকা দেখে কলাগাছের পাতা দিয়ে পানি জমানো শুরু করেছিলেন। কিন্তু পাতা অল্প দিনেই শুকিয়ে যাওয়ায় পানি আর জমিয়ে রাখা যেত না।

ক্রুজের ভাষ্যে, ‘পাতা দুই সপ্তাহের বেশি টিকত না। তাই আমি আর আমার বাবা মিলে বাঁশ কেটে দীর্ঘ একটা রাস্তা বানিয়েছিলাম, যা দিয়ে পাতায় জমে থাকা পানি এসে জমত। আর এভাবেই আমি পানি সংগ্রহ করার সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেলাম।’

এখনো ক্রুজ পানি সংগ্রহ করেন, তবে তা আরও ভিন্ন পদ্ধতিতে। তিনি এখন কুয়াশা ধরেন। পাহাড়ের গায়ে বিশালাকার জাল টানিয়ে কুয়াশা ধরেন তিনি। পেরুতে যেহেতু ভারী কুয়াশা পড়ে, তাই এ কুয়াশাকেই তিনি ব্যবহার করা শুরু করেন পানি সংগ্রহের জন্য। বিশালাকার জালের সঙ্গে কিছু পাইপ বাঁধা থাকে। ওই পাইপ দিয়েই চুইয়ে চুইয়ে পানি নেমে আসে।

প্রত্যেকটি জাল দিয়ে দিনে ২০০ থেকে ৪০০ লিটার পানি সংগ্রহ করা যায়। ক্রুজের এ আবিষ্কারের ফলে কুসকো অঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সংকটের অনেকটা সমাধান হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের এখন আর পানির জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় না। ক্রুজ ইতিমধ্যেই দুই হাজার জাল বসিয়েছেন কুয়াশা ধরার জন্য। পেরু, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও বলিভিয়ার আটটি প্রত্যন্ত সম্প্রদায় এখন এ সুবিধা পাচ্ছে।

বিবিসিকে ক্রুজ বলেন, ‘যেসব অঞ্চলে অনেক খরা হয়, সেখানে আজকাল কৃষিকাজ করা যাচ্ছে। তাকনায় একজন ব্যক্তি কুয়াশা ধরাকে কাজে লাগিয়ে এক হাজার মুরগি লালন-পালন করছেন। তার গোটা জীবন পাল্টে গেছে। অনেক পরিবার এখন কৃষির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে পানি পাওয়ার কারণে। অথচ কেউ কল্পনাও করেনি ওই অঞ্চলগুলোতে কোনোদিন কৃষিকাজ করা যাবে।’ ক্রুজ এখন দক্ষিণ আমেরিকায় মুভমেন্ট অব পেরুভিয়ান উইথআউট ওয়াটার নামের একটি সংস্থা পরিচালনা করেন।

তবে এখানেই শেষ হয় ক্রুজের কাজের। বাতাসের সঙ্গে যেহেতু অনেক দূষিত পদার্থ থাকে তাই কুয়াশা থেকে প্রাপ্ত পানিতেও অনেক দূষণ থাকতে পারে। এ দূষণ দূর করতে পানি বিশুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়াও তৈরি করতে হয়েছে তাকে। পানি বিশুদ্ধ করার পর তা পানযোগ্য হয়। আর যে অঞ্চলে ওই বিশুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যায় না, সেখানে পানি ফুটিয়ে খাওয়া হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত