ভারতে নাগরিকত্ব আইন পাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত নিহত ৬৯

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২০, ০৪:৫২ পিএম

ভারতের পার্লামেন্টে বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) পাস হওয়ার পর থেকে দেশটিতে বিভিন্ন ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬৯ জন নিহত হয়েছে।

দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু জানায়,  আইনটি পাস হওয়ার আগ থেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শুরু করে দেশটির সচেতন নাগরিকেরা।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর সিএএ পাস হয়। এর পরপরই পুরো ভারতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

সিএএ’কে মুসলিম বিরোধী, অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে উত্তাল হয়ে উঠে সবগুলো রাজ্য। আসামসহ উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলো অগ্নিগর্ভ ধারণ করে। পাশাপাশি উত্তপ্ত হয়ে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়, জামিয়া মিলিয়া, জেএনইউর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আন্দোলনকারীদের ওপর একাধিকবার হামলা চালায় পুলিশ ও সিএএ সমর্থনকারীরা।

এই আইনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় অত্যাচারের কারণে ভারতে শরণার্থী হিসেবে হিন্দু, পারসি, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা আশ্রয় নিতে বাধ্য হলে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। সেখানে প্রতিবেশী দেশ থেকে যাওয়া মুসলিমদের বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই।

আইনটি পাস হওয়ার ৭৯ দিনের মধ্যে নিহত হয়েছে ৬৯ জন। দুই মাসের অধিক সময়ে অর্ধশতাধিক মৃত্যুর পরেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কীভাবে আইনটি কার্যকর হবে।

আসামে নিহত হয় ৬ জন, উত্তর প্রদেশে ১৯ জন কর্ণাটকে দুজন এবং সর্বশেষ দিল্লির সাম্প্রদায়িক হামলায় ৪২ জন। সিএএ'র পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষ থেকেই এই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে দিল্লিতে।

এ ছাড়া কেরালা, তামিলনাড়ু, মহারাষ্ট্র, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাট, তেলেঙ্গনা, কর্ণাটকে সিএএ বিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভ সংগঠিত হয়। এক সঙ্গে কোটি মানুষেরও জমায়েত হয় কোনো কোনো বিক্ষোভে। টানা দুই মাস ধরে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে আছে দিল্লি।

সিএএ’র পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক তালিকা (এনআরসি) এবং জাতীয় আদমশুমারি (এনপিআর) এর বিরুদ্ধেও বিক্ষোভে নামে ভারতের নাগরিকেরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত