ভারতের রাজধানী দিল্লিতে আরও তিন মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে শহরটিতে সাম্প্রদায়িক হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
এনডিটিভি জানায়, রবিবার উত্তর-পূর্ব দিল্লির দুইটি খালে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত সপ্তাহে রবিবার বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনকে (সিএএ) কেন্দ্র করে পক্ষ-বিপক্ষে সংঘর্ষ থেকে সহিংসতা শুরু হয়। এর জন্য দায়ী করা হয় বিজেপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যকে।
পরদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দিনের সফরে ভারতে আসেন। সেদিন সহিংসতা আরও বড় আকার ধারণ করে।
টানা চার দিনের হামলায় ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সহিংসতায় মসজিদ ভাঙচুর করে মিনারে হনুমানের পতাকা উড়িয়ে দেয়ার ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনাম হয়ে উঠে এই ঘটনা। এ ছাড়া আরও দুই মসজিদ এবং একটি মাজার ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এই ঘটনায় আহত হয়েছে দুই শতাধিক, যাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ অন্তত ৭০ জন। নিহতদের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মী ও গোয়েন্দা কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ১১ জন পুলিশকর্মী।
সহিংসতার ঘটনায় দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখার অধীনে দুটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলেছে কংগ্রেস।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যায়। কোথাও আবার নিজ হাতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙেছে পুলিশ।
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার এক সূত্র জানায়, রবিবার পরপর ছয়বার গোয়েন্দা সতর্কবার্তা দেয়ার পরও কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি দিল্লির পুলিশ। চার দিনেরও কম সময়ে পুলিশের কাছে ১৩ হাজারের বেশি ফোনকল গেছে। এরপরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় পুলিশ।
