নবম-দশম শ্রেণি : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২০, ১০:৪৩ পিএম

সুধীর বরণ মাঝি

শিক্ষক, হাইমচর সরকারি মহাবিদ্যালয়, চাঁদপুর

প্রথম অধ্যায় : ইতিহাস পরিচিতি

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর ৪

উদ্দীপকটি পড়ে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাওÑ

অহনা ও বিউটি দুই বান্ধবী। তারা ক্লাস শেষে একদিন ইতিহাস সম্পর্কে আলোচনা করছিল। অহনা বলল, মানব সমাজের শুরু থেকে যাবতীয় কর্মকা-, জীবনযাত্রার অগ্রগতি ইতিহাস থেকে জানা যায় এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে বহু ধারণা পোষণ করেন। মানব সমাজের অতীত কর্মকা- নিয়ে আলোচনা করাই হলো ইতিহাস। বিউটি বলল, দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।

ক.         স্তম্ভলিপি ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান?

খ.         ইতিহাসের বিষয়বস্তু বলতে কী বোঝায়?

গ.         অহনার আলোচনা থেকে ঐতিহাসিকদের ধারণা থেকে কীভাবে ইতিহাস সম্পর্কে জানবে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করো।

উত্তর

ক.         স্তম্ভলিপি ইতিহাসের অলিখিত বা প্রতœতাত্ত্বিক উপাদান।

খ.         মানব সমাজ ও সভ্যতার ধারাবাহিক পরিবর্তনের প্রমাণ ও লিখিত দলিল হলো ইতিহাস। ইতিহাসের বিষয়বস্তুর পরিসর ব্যাপক।  ঐতিহাসিক ভিকো মনে করেন, মানব সমাজ ও মানবীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপত্তি ও বিকাশই ইতিহাসের বিষয়বস্তু। মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন যা মানব সমাজ ও সভ্যতায় উন্নতি ও অগ্রগতিতে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে, যেমন-শিল্প, সাহিত্য-সংস্কৃতি, দর্শন, স্থাপত্য, রাজনীতি, যুদ্ধ ,ধর্ম, আইন প্রভৃতি বিষয় সামগ্রিকভাবে যা কিছু সমাজ-সভ্যতা বিকাশে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রভাবিত করেছে, তা-ই ইতিহাসের বিষয়বস্তু।

গ.         উদ্দীপকে বর্ণিত হয়েছে মানব সমাজের অতীত কর্মকা-। মানব সমাজের অতীত কর্মকা- নিয়ে আলোচনা করাই হলো ইতিহাস। ইতিহাস শব্দটি উৎপত্তি হয়েছে ‘ইতিহ’ থেকে। ইএইচকার-এর ভাষায় ইতিহাস হলো বর্তমান এবং অতীতের মধ্যে এক অন্তহীন সংলাপ। গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডোটাস তার লেখায় সর্বপ্রথম ঐরংঃড়ৎরধ শব্দের ব্যবহার করেন। পরে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা প্রদান করেন। উদ্দীপকের অহনার আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্নলিখিতভাবে ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারি। হেরোডোটাস বিশ্বাস করতেন, ‘ইতিহাস হলো যা সত্যিকার অর্থে ছিল বা সংঘটিত হয়েছিল তা অনুসন্ধান করা ও লেখা।’ এ প্রসঙ্গে ঐতিহাসিক ড. জনসন বলেন, ‘যা কিছু ঘটে তাই ইতিহাস।’ টয়েনবির মতে, ‘সমাজ জীবনই ইতিহাস।’  আধুনিক ইতিহাসের জনক লিওপোল্ড ফন্ র‌্যাংকে মনে করেন, ‘প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তার অনুসন্ধান ও তার সত্য বিবরণই ইতিহাস।’ ইতিহাসবিদ র‌্যাপসন বলেন, ‘ইতিহাস হলো ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও ধারাবাহিক বর্ণনা।’

ঘ. দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। উদ্দীপকে এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিউটির বক্তব্য হলো, ‘দেশ ও জাতির অগ্রগতির জন্য ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।’ এ বক্তব্যটির মূল্যায়ন করে আমরা বলতে চাই, মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্যনির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস। এ কারণে জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাসপাঠ মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ অনুমান করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের পক্ষে নিজের এবং নিজদেশ সম্পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হয়। সুতরাং দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং ব্যক্তির প্রয়োজনে ইতিহাস পাঠ অত্যন্ত জরুরি। তাছাড়া অতীতের সত্যনিষ্ঠ বর্ণনা জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশের সফল সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্যের তাহলে মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। ইতিহাস-জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। ইতিহাসের ব্যবহারিক গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয়তাবোধ এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ়করণে ইতিহাস পাঠের বিকল্প নেই। ইতিহাস হলো একমাত্র বিষয় যার মাধ্যমে একটি জাতির অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায়। ইতিহাস দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা দেয় বলে ইতিহাসকে বলা হয় শিক্ষার্থীর দর্পণ। দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির স্বার্থেই ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন। সঠিক ইতিহাসের মাধ্যমে নিজ দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির ধারাকে গতিশীল রাখা যায়। পরিশেষে বলা যায়, দেশ ও জাতি সম্পর্কে জানতে এবং তাদের অগ্রগতির জন্য অবশ্যই ইতিহাস পাঠ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত