বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাজশাহীর পদ্মানদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় শনিবার সকাল থেকে এ পর্যন্ত ৩জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে তারা হলেন- এখলাস হোসেন, রতন আলী ও মনি বেগম।
স্থানীয়রা জানায়, এখলাস পবা উপজেলার কাঠালবাড়িয়া এলাকার আসলাম আলীর ছেলে। পেশায় কাঠমিস্ত্রী ছিলেন এখলাস। রতন নগরীর রাজপাতা এলাকার মতুরা এলাকার বাসিন্দা।
নৌকাডুবির পর শুক্রবার রাতে তার ৬ বছর বয়সী মরিয়মের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মনি বেগম নগরীর কর্নহার থানার ডাইংয়েরহাট এলাকার শামিম হোসেনের স্ত্রী। তিনি কনে সুইটি খাতুনের চাচি। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ৪ জন। এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বৌভাতের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে পদ্মা নদীতে দুটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকা দুর্ঘটনার পর বর রুমন আলী উদ্ধার হলেও কনে সুইটি খাতুন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
এদিকে, নিখোঁজদের খুঁজতে রাজশাহীর পদ্মা নদীতে শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু করে চারটি উদ্ধারকারী ইউনিট। এর মধ্যে রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি রংপুর থেকে আসা একটি, বিআইডব্লিউটিএর একটি এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি ইউনিট নদীতে কাজ করছে।
নৌকাডুবির ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য এরই মধ্যে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু আসলামকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলে।
শনিবার সকাল থেকে মোট চারটি ইউনিট আবার উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। গতকাল দুপুরে নদী থকে ডুবে যাওয়া একটি নৌকা উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারীরা।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সদর দপ্তরের উপপরিচালক আবদুর রশীদ জানান, নৌ পুলিশ, মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যরা রাজশাহীর শ্রীরামপুর এলাকা থেকে শুরু করে পদ্মাপাড় ঘেঁষে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে থাকা চারঘাট উপজেলা পর্যন্ত নিখোঁজদের খোঁজে টহল দিচ্ছেন।
