আমরণ অনশনে যাচ্ছে শাবিপ্রবির পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২০, ১০:০১ পিএম

ক্লাস-পরীক্ষা চালুসহ ৪ দফা দাবিতে বুধবার থেকে আমরণ অনশনে যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশ রূপান্তরকে এ বিষয় নিশ্চিত করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

এ সময় তারা বলেন, ‘ক্লাস পরীক্ষা চালু ও ৪ দফা দাবি নিয়ে গত ৬ দিন থেকে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছি। কিন্তু শিক্ষকেরা আমাদের কথায় কোন ধরনের কর্ণপাত করছেন না। এ জন্য বুধবার একাডেমিক ভবন ‘এ’ এর সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’  

শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবিসমূহ হল- বর্তমান ছাত্র উপদেষ্টা মুহাম্মদ ওমর ফারুকের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের প্রস্তাবিত তালিকা থেকে পরবর্তী ছাত্র উপদেষ্টা নিয়োগ, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ব্যাচের কোনো প্রকার একাডেমিক কর্মকাণ্ডের (ক্লাস নেওয়া, পরীক্ষা, ল্যাব, ভাইভা অথবা প্রথম বা দ্বিতীয় পরীক্ষক হিসেবে খাতা দেখা) সঙ্গে বর্তমান বিভাগীয় প্রধান শামছুন নাহার বেগম ও মুহাম্মদ ওমর ফারুক সংশ্লিষ্ট থাকতে পারবেন না, বিভাগীয় প্রধানকে এ ন্যক্কারজনক ঘটনার জন্য ছাত্রদের নিকট জবাবদিহি করতে হবে।

এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বিভাগের রজতজয়ন্তী উৎসব পালনকালে বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে একাডেমিক ফলাফল নিয়ে হুমকি দেন এমসি কলেজের এক শিক্ষক। এ সময় বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা ও বিভাগীয় প্রধান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে বহিরাগত শিক্ষককে বাধা প্রদান না করে দাঁড়িয়ে থাকেন বিভাগের শিক্ষকেরা।

এতে গত ২ মার্চ শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় প্রধানের কাছে ঘটনার জবাবদিহি ও বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগসহ চার দফা দাবি পেশ করেন।

দাবি জানানোর পরের দিন ভিকটিম ছাত্রসহ আরও কিছু শিক্ষার্থীকে বিভাগীয় প্রধানের রুমে ডাকা হয়। তখন বিভাগীয় প্রধানের রুমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় । এর প্রেক্ষিতে ৪ মার্চ অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে নোটিশ বোর্ডে বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেয় বিভাগের প্রধান।

এ বিষয়ে বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. শামছুন নাহার বেগম সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘বিভাগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল শিক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। তার কারণে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি এ বিষয় নিয়ে কাজ করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত