রাজধানীর বাড্ডার বেরাইদের মাদানীনগর ১০০ ফুট সড়কে স্থানীয়দের বহনকারী তিনটি বাসে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে ইউনাইটেড গ্রুপের নিরাপত্তাকর্মীরা। গত বুধবার বিকেলে এ হামলায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে স্থানীয় উপশম হাসপাতাল ও তিনজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাহিদ (২৫) নামে একজনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, বেরাইদ এলাকা থেকে কয়েকটি বাসে চড়ে মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে যাচ্ছিলেন বসুন্ধরা কিংস ক্লাবের সমর্থকরা। পথে ইউনাইটেড গ্রুপের শেফ টেবিল ফুড কোর্টের সামনে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রধান সড়ক আটকে রাখলে যাত্রীরা প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ উঠেছে, এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা হামলা চালায়। রায়হানুল ইসলাম, রফিক ও আবদুল কাদের নামে তিন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে সাত-আটটি বাসে করে বেরাইদ থেকে একদল দর্শক স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাচ্ছিলেন। এ সময় স্থানীয় এক লেগুনাচালকের সঙ্গে পার্ক করা নিয়ে ইউনাইটেড গ্রুপের নিরাপত্তাকর্মীদের বাগ্বিত-া হয়। কিছু বোঝার আগেই যাত্রীদের ওপর ইটপাটকেল, রড, লাঠি, ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় গ্রুপটির নিরাপত্তাকর্মীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় তাদের অন্যান্য কর্মচারীরাও।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ইউনাইটেড গ্রুপের নিরাপত্তাকর্মীর পোশাক পরা ছাড়াও সাদাপোশাকের অনেক যুবক দেশীয় অস্ত্র হাতে হামলায় অংশ নিয়েছে। তারা সাহেদ নামে এক যুবককে ধরে শেফ টেবিল ফুড কর্নার এলাকায় নিয়ে যায়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে বুধবার বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, বাড্ডা ও ভাটারা থানা পুলিশের উপস্থিতিতিই ইউনাইটেড গ্রুপের শেফ টেবিলের কর্মকর্তা পরিচয়ে কয়েকজন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে চাচ্ছেন। হামলার কারণ জানতে চাইলে তারা সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে বলেন, ভুল-বোঝাবুঝি হয়েছে। সমাধানও হয়ে গেছে।
ভাটারা থানার ওসি মোক্তারুজ্জামান বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে আমরাও সেখানে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে ভাঙা গাড়িগুলো সরানো হয়েছে। ঘটনাস্থলটি বাড্ডা থানা এলাকায়। তারাই পরবর্তী ব্যবস্থা নিচ্ছে।’ জানতে চাইলে বাড্ডা থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, ‘বুধবার বিকেল থেকে পরিস্থিতি শান্ত আছে। কেউ অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আইয়ুব আনসার মিন্টু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই নিরীহ এলাকাবাসীর জমি জোরপূর্বক দখল করে ইউনাইটেড গ্রুপ তাদের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলছে। জোরপূর্বক অনেক জমি ভরাট করে দখল করার কারণেই এলাকাবাসীর সঙ্গে ইউনাইটেড গ্রুপের বিরোধ।
