কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিদের হস্তশিল্পসহ নানা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলছেন। ‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’ স্লোগানে তারা কারাগার মানেই বন্দীদের কারা প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা এ ধারণা পাল্টে দিয়েছেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) এক প্রতিবেদনে জানা যায়, এখানে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও মানসিক বিকাশে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে বন্দীদের জীবনমান বদলে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়ে নিপুণ কারিগর হয়ে উঠছেন বন্দীরা।
বর্তমানে প্রায় ৩শ’ বন্দী তাঁত, বাঁশ-বেত, নকশি কাঁথাসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি ও হস্তশিল্পের কাজে ব্যস্ত থাকেন।
এ ছাড়া কারাগারে লেখাপড়া না জানা বন্দীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি গণশিক্ষা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্দীদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসে দেশের অন্যতম প্রাচীন সেবা সংস্থা ঢাকা আহসানিয়া মিশন কর্তৃপক্ষ।
এসব বন্দীরা মুক্তি লাভের পর হস্তশিল্প স্থাপনের মাধ্যমে নতুনভাবে কর্মজীবন শুরুর পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখার সক্ষমতা অর্জন করছেন। এ ছাড়া অনেক চিহ্নিত অপরাধী ও মাদকাসক্ত এ কারাগারে যাওয়ার পর তাদের মানসিক বিকাশে উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৬২ সালে কুমিল্লা জেলা কারাগারটিকে কেন্দ্রীয় কারাগারে রূপান্তরিত করা হয় । এর ধারণ ক্ষমতা ১ হাজার ৭শ ৪২ জন হলেও গড়ে এখানে তিন হাজার কয়েদি অবস্থান করেন। কারাগারে ধারণক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ বন্দী থাকলেও সবই চলছে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যেই। বন্দীদের মধ্যে অদক্ষ নারী-পরুষদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কারাগারের প্রধান ফটকের সামনেই কারা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক পরিচালিত কারা প্রদর্শনী বিক্রয় কেন্দ্রে খুচরা ও পাইকারিভাবে বিক্রিও হচ্ছে এসব পণ্য। বন্দীরা কারাগারের ভেতর বিভিন্ন খাদ্য ও পণ্য সামগ্রীও তৈরি করছেন যা বন্দী ও কারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বল্পমূল্যে খেতে পারেন। এ ছাড়া বন্দীদের তৈরি মুড়ি, খইসহ সুস্বাদু খাদ্যপণ্য কারা ক্যানটিন থেকে কারাগারের বন্দীদের স্বজন ও বাইরের লোকজনের নিকট বিক্রি করা হয়ে থাকে।
এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা কারাগারের ডেপুটি জেলার ও ইনচার্জ শাহনাজ বেগম বলেন, “কুমিল্লার কারাগারে বন্দীদের তৈরি নানা পণ্য সুলভ মূল্যে সারা বছর বিক্রি হয়। কারাগারের নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্রে এসব পণ্য বিক্রি করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলাসহ বিভিন্ন মেলায় এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।”
জেলার ফোরকান ওয়াহিদ জানান, কারাগারে বিক্রীত পণ্যের লভ্যাংশ দেওয়া হচ্ছে বন্দীদের। এতে কারা জীবনেও তারা যেমন স্বাবলম্বী হচ্ছেন, তেমনি সাজা ভোগের পর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়ে তারা দ্রুত কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে।
কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত একাধিক বন্দী জানান, সেখানে মাদকাসক্ত বন্দীদের সংশোধন ও মানসিক বিকাশে উদ্বুদ্ধকরণসহ খাদ্য উপকরণের মান, রান্না করা খাবারের মান, রন্ধন প্রণালি এবং পরিবেশনের দিকে কারা কর্তৃপক্ষের নজরদারি রয়েছে।
