যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গাজীপুরে মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৪৯তম বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা। সকালে জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম ও মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হুরমতসহ শহীদদের কবর জিয়ারত, সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে ১৯ মার্চের স্মরণে তৈরি অনুপ্রেরণা ভাস্কর্যে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু নাসার উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জহিরুল ইসলাম, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রীনা পারভীন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল জাকি, মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার মিয়া, ইমান উদ্দিন প্রমুখ। জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম শহীদ হুরমতের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে কবর প্রাঙ্গণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাত্তার মিয়া, প্রফেসর আবদুল বারী, মুক্তিযোদ্ধা ইমান উদ্দিন, শহীদ হুরমতের মেয়ে হালিমা খাতুন, ছেলে সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। পরে মুক্তিযুদ্ধারা ১৯ মার্চের যুদ্ধে শহীদ কানু মিয়া, নিয়ামত ও মনু খলিফার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
১৯৭১ সালের এই দিনে জয়দেবপুর (গাজীপুর) সেনানিবাসে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করতে ব্রিগেড কমান্ডার জাহানজেবের নেতৃত্বে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের একদল সৈন্য আসছেÑ এ খবরে গাজীপুরের সর্বস্তরের জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দিয়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় পাকসেনাদের সঙ্গে প্রতিরোধ যুদ্ধে হুরমত, নিয়ামত ও মনু খলিফা শহীদ হন এবং কানু মিয়া, ডা. ইউসুফ, সন্তোষসহ অনেকে আহত হন। পরে কানু মিয়া হাসপাতালে মারা যান। এর পর থেকে প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়।
