সাটুরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট, বেপরোয়া এমআর

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ১২:০৭ এএম

সাটুরিয়ায় ৫০ শয্যা হাসপাতাল চলছে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে। হাসপাতালটি ৮ বছর আগে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে এর সেবা। এ অবস্থায় ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা (এমআর) দেখাচ্ছে বেপরোয়া আচরণ।

হাসপাতালটির আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্সরে মেশিন বিকল রয়েছে কয়েক বছর ধরে। রক্তসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করা গেলেও ডাক্তারদের নির্দেশে সেগুলো বাইরের ‘নির্দিষ্ট’ ক্লিনিক থেকে করিয়ে আনতে হয় বলে অভিযোগ রোগীদের। আর হাসপাতাল চত্বর ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দখলে থাকায় বিপাকে পড়তে হয় বহিবির্ভাগের রোগীদের।

সাটুরিয়া হাসপাতাটি ২০১২ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। পরে ২টি আধুনিক ভবন নির্মাণ হয়েছে। একটি ভবন রয়েছে উদ্বোধনের অপেক্ষায়। কিন্তু ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চালাতে হচ্ছে হাসপাতালটি। ২২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও আছে ১৮ জন। এর মধ্যে ৬ জন চিকিৎসক আবার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেষণে। প্রতিদিন তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ রোগী বহিবির্ভাগে চিকিৎসা নেন। আর গড়ে প্রতিদিন ভর্তি হন ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী। এতে মাত্র ১২ জন চিকিৎসক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম।

বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সাটুরিয়া হাসপাতালে অবস্থান করে চোখে পড়ে বিভিন্ন অনিয়ম। বিশেষ করে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা হাসপাতাল ক্যাম্পাস দখল করে রাখেন। কোনো রোগীই তাদের এড়িয়ে যেতে পারেন না।

সাটুরিয়ার উত্তর কাউন্নারা গ্রামের পলী আক্তার বলেন, ডাক্তার দেখিয়ে বের হলেই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা ঘিরে ধরেন। তারপর আমার চিকিৎসাপত্র নিয়ে ছবি তোলেন। বিক্রয় প্রতিনিধিরা এভাবে আমাদের অসুখের গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করায় আমরা বিব্রতবোধ করছি।

ভাটারা গ্রামের আরশেদ আলী তার স্ত্রীকে পেট ব্যথার কারণে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। ডাক্তার রক্ত, ইউরিন এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে বলেছেন। এসব পরীক্ষা হাসপাতালে না করে বাইরে থেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে করতে হয়েছে।

শিল্পি বেগম বলেন, কোমরে ব্যথার জন্য ডাক্তার দেখালে তিনি বাইরের ক্লিনিকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেন। হাসপাতালে অবস্থানরত একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি স্বাধীন হোসেনকে চিকিৎসাপত্রের ছবি কেন তুললেন প্রশ্ন করলে তিনি তেড়ে আসেন। চিৎকার চেঁচামেচি করে সাংবাদিক কেন ভেতরে প্রবেশ করেছে উল্টো প্রশ্ন করেন। এতে উপস্থিত রোগী ও স্বজনরা হতভম্ব হয়ে যান। সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রশিদ বলেন, ৮ বছর ধরে ৫০ শয্যা হলেও ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে চলছি। মাত্র ১২ জন চিকিৎসক দিয়ে আড়াই লাখ জনগণের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমআরদের (ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি) অসৌজন্যমূলক আচরণের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত