চীনের গোপন নথি: প্রতি ৩ আক্রান্তের একজন ছিল করোনার ‘নীরব বাহক’

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ০৯:৪৯ পিএম

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের বড় অংশেরই কোনো ধরনের লক্ষণ ছিল না, তারা ছিলেন ভাইরাসটির নীরব বাহক। চীনা সরকারের একটি গোপন নথি থেকে বিষয়টি জানায় সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

আক্রান্তদের মধ্যে প্রতি তিনজনের একজন ছিলেন নীরব বাহক। এর মানে তাদের শরীরে করোনায় আক্রান্তের লক্ষণ ছিল না কিংবা অনেক দেরিতে প্রকাশ পেয়েছিল।

ফলে এই মুহূর্তে যেসব দেশ করোনা মোকাবিলা করছে তাদের জন্য এই খবর আরও জটিলতা সৃষ্টি করল। এখন পর্যন্ত কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তিন লাখ ১৬ হাজার মানুষ, মারা গেছে সাড়ে ১৩ হাজার।

ডিসেম্বরের শেষে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরে করোনাভাইরাসটির উৎপত্তি। দেশটিতে মারা যায় ৩ হাজার ২৪৫ জন। আক্রান্ত ৮০ হাজারের অধিক। তবে করোনা এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এসেছে চীনা সরকার। গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হয়নি। 

নথি থেকে জানা যায়, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে চীনে ৪৩ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়। তবে শুরুতে তাদের অধিকাংশের মধ্যে ভাইরাসটির লক্ষণটি দেখা যায়নি। তাদের ওয়ারেন্টাইনে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। কিন্তু আক্রান্ত হিসেবে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ওই সময় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৮০ হাজার।

শুরু থেকেই বিজ্ঞানীরা বলে আসছেন, আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তিও বুঝতে পারেন না কীভাবে তার মধ্যে ভাইরাসটি সংক্রমিত হয়েছে। লক্ষণ ছাড়া ভাইরাসটি কতটা সংক্রামক তা নিয়েও বিজ্ঞানীরা একমত হতে পারেননি। মূলত একজন রোগীর শরীরে করোনা আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় সাধারণত পাঁচ দিনের মাথায়। যদিও শরীরের মধ্যে তা তিন সপ্তাহ পর্যন্ত সুপ্ত থাকে।

তবে করোনার লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও পরীক্ষায় যাদের ফল পজিটিভ আসছে তাদের আক্রান্ত হিসেবেই ধরে নিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

গত শনিবার পর্যন্ত চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৮১ হাজার ৫৪ জন। তবে এদের বাইরে ছিলেন লক্ষণ দেখা না যাওয়া ৪৩ হাজার ব্যক্তি। এর মধ্যে চীনের আক্রান্তের সংখ্যাও কমে গেছে, এখন শূন্যের কোটায়। ফলে ওই ৪৩ হাজার জনের শরীরের করোনার লক্ষণ প্রকাশ পায়নি। এতে ধরে নেয়া যায় তারা মূলত ভাইরাসটির বাহক ছিলেন, তাদের মাধ্যমে অন্যদের দেহে সংক্রমিত হয়েছে। গবেষকদের মতে, এদের মধ্যে বড় অংশ ছিল শিশুরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত