হাসপাতালের পরিবেশ দেখে পালিয়েছিলেন নাসিরনগরের প্রবাসী

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২০, ০৯:৫৩ পিএম

শরীরে করোনাভাইরাসের লক্ষণ আছে শুনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাওয়া কাতারপ্রবাসী সুস্থ আছেন। গতকাল রবিবার নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ৩ মার্চ তিনি কাতার থেকে দেশে ফেরেন। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের শরীরে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। জেলা সদর হাসপাতালের করুণ অবস্থা দেখে বাড়ি চলে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ওই প্রবাসী।

জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই প্রবাসী ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় জ্বর, সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে নাসিরনগর থেকে জেলা সদর হাসপাতালে আসেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক এ বি এম মুছা চৌধুরী তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। তখন ওই প্রবাসী ভর্তির জন্য হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। তখন চিকিৎসক করোনাভাইরাসের লক্ষণ আছে উল্লেখ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার কথা জানান তাকে। এসব শোনার পর ভয়ে কাউকে কিছু না বলেই হাসপাতাল থেকে তিনি পালিয়ে যান বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

পরে খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলমের নির্দেশে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ওই প্রবাসীকে খুঁজে বের করে। গত শনিবার তার শারীরিক বেশ কিছু পরীক্ষার-নিরীক্ষার পর গতকাল রবিবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ জানায়, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন।

ওই প্রবাসী সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভর্তি হওয়ার জন্য গিয়ে দেখি হাসপাতালের করুণ অবস্থা। মানুষ ওপরে-নিচে পড়ে আছে। মশা-মাছির মাঝে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই। তাই আমি গ্রামে চলে আসি।’

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ রায় বলেন, ওই প্রবাসী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ, তার পরিবারের কেউ অসুস্থ নয়। সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার পর প্রবাসী শুনে তাকে ভর্তি নেওয়া হয়েছিল।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন বলেন, তাকে আমাদের প্রটেকশন দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতেন তাহলে তো পুরো হাসপাতালকে আক্রান্ত করে ফেলতেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত