নোয়াখালীতে করোনা আতঙ্কে এজমা, টাইফয়েডসহ জ্বর, সর্দি, কাশি ও হাঁচির রোগীরা চিকিৎসা পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যেই বিনা চিকিৎসায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া, সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় বুধবার থেকে সরকারের নির্দেশ মোতাবেক জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের পরামর্শ মতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী টহল শুরু করবে। জেলায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাধার মুখে আইসোলশেন ওয়র্ড করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন জেলা সিভিল সার্জন।
এদিকে, জেলায় প্রবাস থেকে ফেরত আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার আদেশ তাদের অনেকেই মানছেন না। মঙ্গলবার সরেজমিনে প্রবাসীদের অনেককে সরকারি আদেশ অমান্য করে হাটবাজারসহ যত্রতত্র ঘুরে বেড়াতে এবং পাড়ার চা দোকানে বসে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন আর রশিদ জানান, এই এলাকায় গত কয়েক দিনে ২ হাজার ৮০ জন প্রবাসী এসেছের। এর মধ্যে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে ২০৮ জনকে। এত লোককে পাহারা দিয়ে রাখার মতো ফোর্স এ থানায় নাই। এভাবে প্রতিটি থানার কোয়ারেন্টাইনের চিত্র একই। তারপরও পুলিশ এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।
এ ব্যাপারে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক নোয়াখালী জেলা স্কুলকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে যারা সরকারি আদেশ মানবেন না তাদের ধরে এনে জেলা স্কুলের ভেতর রাখা হবে।
জেলার ডাক্তাররা প্রাইভেট চেম্বারে রোগী না দেখার কারণে এজমা, টাইফয়েড, ফ্লু, সর্দি, হাঁচি কাশি ও নিউমোনিয়ার রোগীরা সরকারি হাসপাতালগুলিতে আসলেও করোনা আতঙ্কে তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। যার ফলে জেলার কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সোমবার নোয়াখালী সদরের এওজবালিয়া থেকে আসা এক বৃদ্ধ (৬২) এজমার রোগী জেনারেল হাসপাতালে আসলে চিকিৎসকরা তাকে ভর্তি করতে অপারগতা প্রকাশ করের। তখন তার আত্মীয়রা সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে গ্রামের বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় পথে সে মারা যায়।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এসব রোগীদের জরুরি বিভাগ থেকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক জানান, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে করোনা আতঙ্কে বহু রোগী নিজেরাই ছুটি নিয়ে বাড়ি চলে যাচ্ছে।
নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ২৫৬ জন ডাক্তারের পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছে ১৮৪ জন, সিনিয়র নার্স ১৬০ জনের মধ্যে ৯৯ জন এবং নার্স ৪২ জনের মধ্যে ১৬ জন। কর্মরত থাকা ২৯৯ ডাক্তার নার্সের জন্য ওয়ান টাইম পিপিই সরবরাহ করা হয়েছে ১০০টি।
জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ফরিদ জানান, হাসপাতালে কর্মরত ৫০ ডাক্তার ও ১৪০ নার্সের জন্য পিপিই সরবরাহ করা হয়নি। তবে সোয়ান ফ্লুর সময় সংগ্রহ করা হাসপাতালে থাকা দুই শত পিপিই জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। তিনি জানান, পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনের তৃতীয় তলায় আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হচ্ছে এবং নিচতলায় করা হবে ফ্লু কর্নার।
সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুর রহমান জানান, করোনা শনাক্তের কোন কিট নোয়াখালীতে নেই এবং জেলায় কোন সিসিউ এবং আইসিউ নেই। কয়েকটি এলাকায় আইসোলশেন করার চেষ্টা করলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের বাধার মুখে তা করা যাচ্ছে না।
