করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ানোর প্রধান কারণ মানুষের সংস্পর্শ। মানুষের সঙ্গে অন্য মানুষের সংস্পর্শ এড়াতে সরকার নানা বিধিনিষেধ আরোপ করেও হিমশিম খাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের ছয়ধরিয়া গ্রামের একদল তরুণ নিয়েছেন এক অনন্য উদ্যোগ।
বহিরাগত ও অযাচিত মানুষের সমাগম এড়াতে গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়কটি একপাশ থেকে বন্ধ করে দিয়েছে তারা। অপর পাশের সড়কের প্রবেশ মুখে হাত ধোয়ার জন্য পানি ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এই তরুণেরা খণ্ড খণ্ড দলে বিভক্ত হয়ে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে গ্রামবাসীকে সচেতন করে তুলছেন।
গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছয়ধরিয়া গ্রামে শতাধিক পরিবারের পাঁচ শতাধিক লোকের বসবাস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন গ্রামবাসীর পাশে এগিয়ে আসেন গ্রামের শিক্ষিত তরুণরা। নরসিংদী সরকারি কলেজের ছাত্র তপু সেন ও আশিষ করের উদ্যোগে তরুণরা সম্মিলিতভাবে করোনা মোকাবিলায় উদ্যোগী হয়।
তপু সেন জানায়, করোনাভাইরাস থেকে নিজেকে, আপনজন ও গ্রামের সবাইকে নিরাপদ রাখতেই আমাদের এই উদ্যোগ। প্রথমে সড়ক বন্ধের খবর পেয়ে পুলিশ আসলেও তারা যখন আমাদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছে তখন তারা সাধুবাদ জানিয়েছে। আমরা এই মহামারি রোধ করে গ্রামকে নিরাপদ রাখতে সকল বয়সের মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে কাজ করে যাচ্ছি।
তরুণদের এমন উদ্যোগে খুশি গ্রামের কৃষক শ্যামল সেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কোনো আপস নেই। সরকার সকলকে বাড়িতে অবস্থান করতে বলেছেন। গ্রামের তরুণরা যেই উদ্যোগ নিয়েছে সরকারি সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
জিনারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম গাজী বলেন, তরুণদের এটি একটি ভালো উদ্যোগ। ইতিমধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ পার্শ্ববর্তী রাবান সাতটেকিয়া গ্রামেও দেখা গিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের নজরদারিতে রাখছে। একই ভাবে দেশের অন্যান্য গ্রামের তরুণরা উদ্যোগী হলে আমরা প্রাণঘাতী করোনাকে সহজেই মোকাবিলা করতে পারব।
