করোনা পরিস্থিতিতে যখন প্রত্যেকে নিজে বাঁচার চেষ্টায় ব্যাকুল, সে সময় মাঠে নেমেছেন বগুড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক স্কুল শিক্ষিকা। নিজ বাড়িতে, নিজের হাতে মাস্ক তৈরি করে এলাকার নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন তিনি।
সেই সঙ্গে এলাকার সবাইকে জানিয়ে দিচ্ছেন এ দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে করণীয় কী। এ ছাড়া উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও তার কাছ থেকে বিনা পারিশ্রমিককে তৈরি করে নিচ্ছে মাস্ক। মানবিক কারণে মাঠে নামা এই স্কুল শিক্ষিকার নাম ফৌজিয়া বিথী।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার বেলকুচি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তিনি। এলাকার মানুষের কাছে পরিচিত বিথী আপা নামে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের সময়েই যে তিনি মাঠে মেনেছেন তা নয়। এলাকায় যেখানেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, সেখানেই আগে হাজির হন তিনি। আর এলাকার কোন মানুষ দিনে বা রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরও ভরসা বিথী আপা।
নিজ উদ্যোগে সেই মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া এবং চিকিৎসার খোঁজখবর রাখা যেন তার নিত্যদিনের কাজ।
দেশব্যাপী করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি দেখা দেওয়ার পর ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা এলাকার সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। সেই ডাকে সাড়া দিয়ে কাজে নেমে পড়েন স্কুল শিক্ষিকা বিথী।
ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাপড় কিনে বাড়িতে নিজ হাতে তৈরি করেন মাস্ক। রাতভর মাস্ক তৈরি করে দিনের বেলা তা এলাকার খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করেন।
শুক্রবার পর্যন্ত তিনি নিজে ৬০০ মাস্ক বিতরণ করেছেন। আর উপজেলা প্রশাসনসহ এলাকার বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তার কাছ থেকে এ পর্যন্ত বিনা পারিশ্রমিকে তৈরি করে নিয়েছে আরো এক হাজার মাস্ক। শুধু তাই নয়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে তিনি আর্থিক সহায়তা করে সেই টাকায় করোনাভাইরাস সংক্রান্ত লিফলেট এবং জীবাণুনাশক বিতরণ করতে বলেছেন।
তার কাছ থেকে মাস্ক নিয়ে বিতরণকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মানুষ-স্বজন’ এর সংগঠক নিমাই কর্মকার বলেন, শুধু যে করোনা পরিস্থিতিতেই বিথী আপা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তা নয়, বরং শীতার্ত মানুষ, বন্যাকবলিত মানুষের পাশেও তিনি প্রতি বছরই দাঁড়িয়েছেন। আর এলাকার মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় তো তার বিকল্প নেই।
যোগাযোগ করা হলে স্কুল শিক্ষিকা ফৌজিয়া বিথী বলেন, স্কুলশিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা বাবা মোজাম্মেল হক সেই শিশু বয়সেই তাকে বলেছেন যে নিজে বাঁচার নাম জীবন নয়, সবাইকে নিয়ে বাঁচাই জীবন। এ কারণেই তিনি সাধ্যমতো চেষ্টা করেন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর। যদিও চাকরি, সংসার আর অসুস্থ সন্তান তার ঘরে, তারপরও মন চায় সব মানুষ ভালো থাক। এ কারণেই বরাবরের মতো তিনি চেষ্টা করছেন কিছু করার।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, এমন পরিস্থিতিতে বিথীর মতো মানুষেরই বেশি দরকার। যিনি নিজ উদ্যোগে তো কাজ করছেনই, সেই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন এবং বেশ কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে বিনা পারিশ্রমিকে মাস্ক তৈরি করে দিয়ে মানবতার পরিচয় দিয়েছেন।
