করোনা আতঙ্কের মধ্যেও মুন্সিগঞ্জের আলু চাষীদের মুখে হাসি

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১১:০৫ পিএম

গেল কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে চলতি বছর ‌‘গোল সোনা’ খ্যাত আলুতে লাভের মুখ দেখছেন দেশের বৃহৎ উৎপাদনকারী অঞ্চল মুন্সিগঞ্জের কৃষকেরা। জেলার ছয়টি উপজেলার প্রায় ৭৫ হাজার আলু চাষির মুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক। করোনা ভাইরাস আতঙ্কের মধ্যে জেলা জুড়ে দ্বিগুণের বেশি দামে বেচা কিনি হচ্ছে আলু। জেলার সর্বত্র আলু উত্তোলনের উৎসব এখন শেষের দিকে।

উত্তোলনের শুরুতেই আলু বিক্রিতে লাভের মুখ দেখে আসছে কৃষক। দেশ জুড়ে করোনা আতঙ্ক দিলে সেই দাম দিন দিন বেড়ে এখন দ্বিগুণ থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে আলু বেচা কিনি হচ্ছে।

সদর উপজেলার দক্ষিণ মহাকালী গ্রামের চাষি চুন্নু শেখ জানান, গেল বছর ৫০ কেজি বস্তা প্রতি আলু বেচা কিনি হয়েছে সবে মাত্র ২০০ টাকা দরে। আর চলতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের দিকে আলু উত্তোলনের মৌসুমের শুরুতে খুচরা বাজারে এক কেজি আলু বেচা কিনি হয়েছে ১২ টাকা থেকে ১৫ টাকা দরে। করোনার প্রভাবে বর্তমানে খুচরা বাজারে ২০ টাকা থেকে ২২ টাকা দরে কেজি প্রতি আলু বেচা কিনি হচ্ছে। আর পাইকারি বাজারে জমি থেকেই ৫০ কেজির বস্তা প্রতি আলু বেচা কিনি হচ্ছে ৬০০ টাকা থেকে ৬২০ টাকা দরে।  

শহরের খালইষ্ট এলাকার আলু ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, ৫০ কেজির বস্তা প্রতি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ পড়েছে সর্বসাকল্যে ৩০০ টাকা। আর করোনার প্রভাবে সেই আলু বস্তা প্রতি দ্বিগুণ থেকে দ্বিগুণের বেশি দামে বেচা কিনি হচ্ছে। খুচরা বাজারে সেই আলু কেজিতে আরও বেশি দামে বেচা কিনি চলছে বলেও মন্তব্য করেন এই ব্যবসায়ী।

তিনি আরও জানান, জেলার অধিকাংশ চাষি কোল্ড স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ করে থাকেন। তবে করোনার প্রভাবে দাম বেশি পাওয়ায় অনেকেই জমিতে ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে তার চেয়েও বেশি দামে ৫০ কেজির বস্তা প্রতি আলু পাইকারদের কাছে বিক্রি করছেন।

সদরের খাসেরহাট গ্রামের চাষি মো. আহসান জানান, চলতি বছর আলুতে বাম্পার ফলন হয়েছে। উত্তোলনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পাইকাররা জমি থেকেই আলু কিনে যাচ্ছেন। দাম ভাল পাওয়ায় জেলার চাষিদের অনেকেই দ্বিগুণ দামে জমি থেকেই আলু বেচা কিনি করছেন।

একই গ্রামের চাষি সায়েব আলী বলেন, গেল কয়েক বছরের লোকসান পুষিয়ে চলতি বছর আলুতে লাভের মুখ দেখছেন কৃষককেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল হাসান বলেন, চলতি বছর মুন্সিগঞ্জ সদর, টঙ্গিবাড়ী, লৌহজং, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও গজারিয়া উপজেলায় আলু চাষাবাদে বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত আলুর মান তুলনামূলক ভালো। তাই উত্তোলনের শুরু থেকে করোনা আতঙ্কের মধ্যেও কৃষককুল আলু বেচা কিনি করে লাভের মুখ দেখছেন।

তিনি জানান, চলতি বছর প্রায় ৩৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষাবাদ করা হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে সাড়ে ১৩ লাখ মেট্রিক টন আলু। জেলার ৬ টি উপজেলায় আলু সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে ৭৪ টি। কোল্ড স্টোরেজ গুলোতে ৫ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত