ঈশ্বরগঞ্জে এক সপ্তাহে 'অজ্ঞাত' রোগে ৫ জনের মৃত্যু

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২০, ০২:৫২ পিএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছয় দিনে পাঁচজনের মৃত্যুতে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নিহতরা সবাই সর্দি-কাশি, জ্বর ও গলাব্যথায় আক্রান্ত ছিলেন। তবে তাদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।

এ অবস্থায় কেউ কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে সন্দেহ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাতে এক বৃদ্ধ (৬০) মারা যান। এরপর বুধবার সকালে জানাজা শেষে তার মৃতদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলাব্যথায় ভুগছিলেন।

মঙ্গলবার বিকেলে মারা যান এক কলেজছাত্র (২০)। সম্প্রতি ঢাকা থেকে জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলাব্যথা নিয়ে তিনি বোনের বাড়িতে ওঠেন। সেখানেই তিনি মারা যান। স্বজনেরা রাতেই তার লাশ নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন করেন।

এই তরুণের মৃত্যুর পর তার ভাগনি জ্বর, সর্দি-কাশি ও গলাব্যথায় আক্রান্ত হন।

বুধবার শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে ২৬ মার্চ ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার এক তরুণ (৩৫), উপজেলার একটি গ্রামের এক তরুণী (২৫) ও পরদিন তরুণীর চাচা (৫৫) মারা যান। ওই তিনজন জ্বর, সর্দি-কাশি ছাড়াও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।

এই পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকার অধিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্যসচিব নুরুল হুদা খান বলেন, মাঠপর্যায়ে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীদের দেওয়া তথ্যে আগের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর সঙ্গে করোনার উপসর্গের মিল পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, এক কলেজছাত্র মারা যাওয়ার পর তার মরদেহ কেন্দুয়া নিয়ে দাফন করে ফেলা হয়েছে। কলেজছাত্রের অসুস্থ ভাগনিকে (২৫) ময়মনসিংহের একটি হাসপাতালে ভর্তি করে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষা করার পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

এ ছাড়া অধিকতর সতর্কতা হিসেবে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত