করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে দেশে দেশে চলছে লকডাউন। কিন্তু সরকারে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকেই বের হচ্ছেন রাস্তায়। তা রোধে অভিনব এক ব্যবস্থা নিয়েছে তিউনিসিয়ার পুলিশ। রাস্তায় নামলেই তাদের রোবটের খপ্পরে পড়ছেন রাজধানী তিউনিশের বাসিন্দারা।
ফাঁকা রাস্তায় কাউকে হাঁটতে দেখলেই তাদের কাছে চলে যায় রোবটটি এবং জিজ্ঞেস করে কেন তারা বাইরে। তখন ওইসব পথচারীদের অবশ্যই তাদের আইডি কার্ড ও অন্যান্য কাগজপত্র দেখাতে হয় রোবটের ক্যামেরায়। অফিসাররা দূরে কন্ট্রোল রুমে থেকে ওসব যাচাইবাছাই করে থাকেন।
উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়ায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা পাঁচ শ ছুঁই ছুঁই; মৃতের সংখ্যা ১৮। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে দেশটিতে দুই সপ্তাহ ধরে চলছে লকডাউন।
এমন অবস্থায় জনসাধারণকে অবশ্যই ঘরের ভেতর অবস্থানের আহ্বান জানিয়েছে সরকার। তবে ওষুধপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য জিনিসপত্র কেনার ক্ষেত্রে কেউ চাইলে বাইরে যেতে পারে।
কিন্তু নিয়ম অমান্য করে যারা বাইরে ঘোরাফেরা করতে বের হয় তাদেরকে নজরদারিতে আনতে পুলিশের মাধ্যমে তিউনিসের রাস্তায় গোয়েন্দা রোবট ছেড়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিজ দেশে নির্মিত এই রোবটের নাম ‘পিগার্ড’। তবে এ জন্য কত সংখ্যক রোবট ছাড়া হয়েছে তা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
এসব রোবটের দাম বা অন্যান্য বিষয়ে তথ্য গোপনীয় বলে বিবিসিকে জানিয়েছে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনোভা রোবোটিকস।
চার চাকার পিগার্ডের আছে শক্তিশালী থার্মাল-ইমেজিং ক্যামেরা ও লাইডার (লাইট ডিটেকশন অ্যান্ড রেঞ্জিং) টেকনোলজি, যেটা অনেকটা রাডারের মতো কাজ করে। তবে রেডিও তরঙ্গের পরিবর্তে ব্যবহার করে আলোকরশ্মি।
লকডাউনে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এই রোবট কিভাবে কাজ করছে তার ভিডিও ফেইসবুকে পোস্ট করেছে তিউনিসিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
অনেকে এটাকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে কেউ কেউ বলছেন এই রোবট প্রয়োজনের তুলনায় অনেক ধীরে নড়াচড়া করে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকগুলো ভিডিও ক্লিপে দেখা যাচ্ছে, মানুষজনকে রাস্তায় থামিয়ে দিচ্ছে পিগার্ড।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, এক পথচারীকে রোবট জিজ্ঞেস করছে, চলমান লকডাউনের ব্যাপারে সে জানে কি-না। পথচারী জবাব দেন, তিনি সিগারেট কেনার জন্য বের হয়েছেন। জবাবে রোবট বলে, “ওকে আপনার সিগারেট কিনে আনুন। কিন্তু দ্রুত করুন এবং বাড়ি যান।”
